প্রচ্ছদ > শীর্ষ সংবাদ > হবিগঞ্জে জামাতা কাউছার হত্যায় শ্বশুর-শাশুড়ির দায় স্বীকার

হবিগঞ্জে জামাতা কাউছার হত্যায় শ্বশুর-শাশুড়ির দায় স্বীকার

শীর্ষ সংবাদ সিলেট প্রতিক্ষণ হবিগঞ্জ

সময়ের ডাক : হবিগঞ্জ সদর উপজেলার টঙ্গিরঘাটে চাঞ্চল্যকর কাউছার হত্যা মামলার গ্রেপ্তারকৃত ৩ জনের মধ্যে শ্বশুর ও শাশুড়ি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

হবিগঞ্জের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় দুই ঘন্টাব্যাপী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়।

পুলিশ জানায়, জবানবন্দীতে নিহত কাউছারের শ্বশুর মকসুদ আলী বলেন- নিহত কাউছারের যৌতুকের টাকা চাওয়ার যন্ত্রণায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন। বিভিন্ন সময় কাউছার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে টাকা চাইতো এবং শ্বশুরসহ তাদের বাড়ির লোকজনের সাথে দুর্ব্যবহার করতো।

 

ঘটনার দিন রাতে কাউছার তার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শ্বশুর মকসুদ আলীর কাছে দেড় লাখ টাকা চায়। কিন্তু শ্বশুর টাকা দিতে রাজী না হওয়ায় কাউছার তার সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে শ্বশুর মকসুদ আলী, তার ভাই কাদির মিয়া ও ছেলে আমান আলী মিলে কাউছারকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা মকসুদের ঘরের পাশেই কাউছারকে জাপটে ধরে। এ সময় বাঁচার জন্য কাউছার তাদের কাছে প্রাণভিক্ষা চাইলেও ঘাতকরা তাকে প্রাণভিক্ষা দেয়নি। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাউছারের হাত, মুখ বেঁধে প্রথমে শরীরে আঘাত করে। পরবর্তীতে তাকে জবাই করে হত্যা করে।

 

কাওসারের শ্বশুর-শাশুড়ি
এ সময় ঘাতকরা কাউছারের শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এরপর ছোট একটি নৌকা নিয়ে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে রুয়াইল হাওরে কাউছারের লাশ নিয়ে যায় ঘাতকরা। এ সময় ঘাতকরা লাশের যাতে সন্ধান না পাওয়া যায় সেজন্য কাউছারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৬টি ইট ও ১টি পাথর বাধে। মাথাটা দেহ থেকে ১০ হাত দূরে ফেলে দেয়। ঘাতকরা ভেবেছিল- এভাবে লাশ ফেললে আর কেউ তার সন্ধান পাবে না। কিন্তু কাউছারের স্ত্রী সুখবানুর কারণে এই খুনের রহস্য আর গোপন থাকেনি।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি তদন্ত জিয়াউর রহমান জানান, পরিকল্পিতভাবে কাউছারকে হত্যা করেছে শ্বশুরসহ আত্মীয় স্বজনরা। জবানবন্দিতে কাউছারের শ্বশুর মকসুদ আলী হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। জবানবন্দি শেষে আদালতের নির্দেশে কাউছারের স্ত্রী সুখবানু, তার পিতা মকছুদ মিয়া ও মাতা খাইরুন্নেচ্ছাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

 

এ ঘটনায় নিহত কাউছারের ভাই জালাল মিয়া বাদী হয়ে কাউছারের স্ত্রী সুখবানু, তার পিতা মকছুদ মিয়া, মাতা খাইরুন্নেছা, ভাই আমান আলী, চাচা কাদির মিয়াসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাতে মকছুদ আলী তার ভাই আব্দুল কাদির, ছেলে আমান আলী উমেদনগরের আকল মিয়ার পুত্র কাউছারকে গলা কেটে হত্যা করে লাশটি রুয়াইল হাওরে ফেলে দেয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে উল্লেখিতদেরকে আটক করে তাদের দেখানো মতে গত শনিবার বিকেলে ওই হাওর থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত শেষে রোববার দুপুরে পরিবারের জিম্মায় লাশ হস্তান্তর করে।