প্রচ্ছদ > খেলাধুলা > সিলেটের ছেলের গোলে লাওসকে হারালো বাংলাদেশ

সিলেটের ছেলের গোলে লাওসকে হারালো বাংলাদেশ

খেলাধুলা শীর্ষ সংবাদ সিলেট প্রতিক্ষণ

সময়ের ডাক: ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে লাওস বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। ১৭৯তম স্থানে থাকা লাওসের চেয়ে চৌদ্দ ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ (১৯৩)। আগের লড়াইয়ে পরিসংখ্যানও লাওসের পক্ষে। মুখোমুখি হওয়া দুই ম্যাচের মধ্যে একটিতে লাওসের জয়, অপরটি ড্র। তবে র‌্যাঙ্কিং কিংবা পরিসংখ্যানে এগিয়ে থাকা লাওস এবার পাত্তা পেল না বাংলাদেশের কাছে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে ১-০ গোলে লাওসকে হারিয়ে সেমিফাইনালে যাওয়ার পথে এক পা এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। সিলেটের ছেলে বিপলু আহমদ করেছেন ম্যাচের একমাত্র গোলটি।

ম্যাচের প্রথমার্ধে একের পর এক আক্রমণ করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেদ করে গোলের দেখা পাওয়া যায়নি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডদেরও দায় ছিল। তারা সহজ সুযোগ মিস না করলে এ অর্ধেই এগিয়ে যেতে পারতো বাংলাদেশ। লাওসও কয়েকবার আক্রমণে ওঠেছিল। কিন্তু দুর্বল শট আর বাংলাদেশ ডিফেন্সের দৃঢ়তায় গোলপোস্টের জাল খুঁজে পায়নি তারাও।

দ্বিতীয়ার্ধেও চিত্রটার বদল হয়নি খুব একটা। প্রথমার্ধের মতোই একের পর এক আক্রমণে ওঠেছে বাংলাদেশ। তবে প্রতিপক্ষের ডিবক্সে গিয়ে সেই আক্রমণ খেই হারিয়েছে। লাওসও পারেনি বাংলাদেশ ডিফেন্সের খুব বেশি পরীক্ষা নিতে।

ম্যাচের ৫৯ মিনিটে প্রতিপক্ষের বক্সে বল পেয়ে শট নিয়েছিলেন পুরো ম্যাচে দারুণ খেলা নাবিব নেওয়াজ জীবন। সেই শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক। ফিরতি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। জটলার মধ্যে বল পেয়ে আলতো ছোঁয়ায় গোল করেন বিপলু আহমদ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সহজ সুযোগ নষ্ট করেন সুফিল। প্রতিপক্ষের বক্সে গোলরক্ষককে একা পেয়েও পোস্টের বাইরে শট নেন তিনি। পাল্টা আক্রমণে ডান প্রান্ত দিয়ে বাংলাদেশ ডিফেন্সে ঢুকে পড়েন লাওসের সকচিন্ডা নাথফাসুক। তবে তার জোরালো পোস্টের ঠিক উপর দিয়ে বাইরে যায়। ম্যাচের ৫০ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে বাড়ানো শটে লাওসের বক্সে লক্ষ্যভ্রষ্ট হেড নেন বদলি হিসেবে নামা রবিউল। ম্যাচের ৮৪ মিনিটে আক্রমণে ওঠা লাওসের ফিটহ্যাককে ফাউল করেন বাংলাদেশের এক ডিফেন্ডার। ফ্রি কিক কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় লাওস। পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন ইব্রাহিম। তবে গোলরক্ষক এগিয়ে এসে আরেকটি গোল খাওয়া থেকে রক্ষা করেন লাওসকে।

এর আগে প্রথমার্ধের ৮ মিনিটে লাওসের ফরোয়ার্ড সকচিন্ডা নাটফাসুক বাংলাদেশের ডিফেন্সকে পরাস্ত করেছিলেন। তবে গোলরক্ষকের বাধা ডিঙাতে পারেননি। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক থাকা বাংলাদেশ ১১ মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিল এগিয়ে যাওয়ার। মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো বল ধরে প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে ঢুকে পড়েছিলেন নাবিব নেওয়াজ জীবন। কিন্তু তার জোরালো শট পোস্টের উপর দিয়ে যায়। দু’মিনিট পরে ডান প্রান্তে বল ধরে জীবনের দারুণ এক পাস কর্ণারের বিনিময়ে রক্ষা করে লাওস। প্রথমার্ধের ১৫ মিনিটে লাওসের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। বাঁ প্রান্ত দিয়ে ছানথাফনে ওয়েনভংসথের বাড়ানো শটে বনথাভি সিপাসংয়ের হেড পোস্টের ঠিক উপর দিয়ে বাইরে যায়।

১৮ মিনিটে বিপলুর ব্যর্থতায় গোল পায়নি বাংলাদেশ। সিলেটের এই ছেলে প্রতিপক্ষের ডিবক্সে ফাঁকায় বল পেয়েও শট নিতে ব্যর্থ হন। ২৫ মিনিটে সুযোগ নষ্ট করেন সিলেটের আরেক ছেলে মাহবুবুর রহমান সুফিল। বাঁ প্রান্ত দিয়ে প্রায় মাঝমাঠ থেকে বল বাড়িয়েছিলেন ওয়ালি ফয়সাল। বল ধরে গোলরক্ষককে একা পেয়েও পোস্টের অনেক বাইরে মারেন সুফিল। এ অর্ধের ২৯ মিনিটে টুটুলের বাড়ানো পাস ধরে জীবনের শট সহজেই হাতের মুঠোয় পুরেন লাওসের গোলরক্ষক সায়মনলিন পাসেউথ। দুই মিনিট পর বাংলাদেশের ডিবক্সে ফাঁকায় বল পেয়েও শট নিতে ইতস্তত করতে করতে সুযোগ হারান লাওসের ফিটহ্যাক। ৩৬ মিনিটে বনপাছান বনকং ডিবক্সের বাইরে বল ধরে বাংলাদেশ ডিবক্সে ঢুকে পড়েছিলেন। তবে তার দুর্বল শট ঠেকাতে বেগ পেতে হয়নি বাংলাদেশ গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানাকে। ৪০ মিনিটের মাথায় ফউথনে ইনালয়ের শট বাংলাদেশ পোস্টের উপর দিয়ে যায়। প্রথমার্ধের শেষ বাঁশি বাজার আগে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন বাংলাদেশ ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ।