প্রচ্ছদ > শীর্ষ সংবাদ > বিশ্বনাথের মামলাবাজ আনোয়ার মিয়ার বিরুদ্ধে দুই গ্রামবাসীর অভিযোগ

বিশ্বনাথের মামলাবাজ আনোয়ার মিয়ার বিরুদ্ধে দুই গ্রামবাসীর অভিযোগ

শীর্ষ সংবাদ সিলেট প্রতিক্ষণ

সময়ের ডাক : সিলেটের বিশ্বনাথে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আনোয়ার মিয়ার হাত থেকে বাঁচতে চায় দুই গ্রামবাসী। আনোয়ার মিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের মৃত কাছিম আলীর পুত্র। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজনগর ও মোল্লারগাঁও দুই গ্রামবাসী স্বাক্ষরিত বিভিন্ন অভিযোগ এনে থানায় আনোয়ার মিয়ার বিরুদ্ধে একটি লিখিত আবেদন দিয়েছেন। এসময় দুই গ্রামবাসীর সাথে ছিলেন অত্যাচারে বাড়ি ছাড়া তার ছোট ভাই জিতু মিয়া ও বোন জ্যোস্না বেগম।
অভিযোগে উল্লেখ করেন, আনোয়ার মিয়া এলাকায় প্রবাসী সাংবাদিক ও একজন রাজনৈতিক ব্যাক্তি পরিচয় দিয়ে মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে। সে একজন মামলাবাজ, নারী উত্যাক্তকারী, মাদক সেবক, গাঁজা ব্যবসায়ী ও মানুষের জায়গাজমি দখলসহ নানা অপকর্মে জড়িত রয়েছে। তার এই অপকর্মের জন্য সমাজ ও গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে আলাদা করে দেয়া হয়েছে। কারও সাথে একটু সমস্যা হলেই প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে মিথ্যা একটি লিখিত পিটিশন দিয়ে হয়রানি করেন। থানায় ওই লিখিত পিটিশন দাখিলের সময় উপস্থিত অনেকেই বলেছেন আনোয়ার মিয়ার মিথ্যা মামলায় হয়ারানি হচ্ছেন। এব্যপারে রাজনগর গ্রামের লন্ডন প্রবাসী হাজী ওয়াহাব আলীর ভাগনে প্রতিবন্ধি লিয়াকত আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তার বাড়ির নিজস্ব রাস্তা নিয়ে আনোয়ার মিয়ার সাথে বিরুধ চলে আসছে। এতে তিনি বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় হয়রানি হচ্ছেন। মখন মিয়া নামের এক লাইব্রেরী ব্যবসায়ী বলেন, ২০১৫সালে আনোয়ার মিয়ার কাছ থেকে ৫০হাজার টাকা দাদন নিয়ে পথে বসেছেন। দাদনসহ সম্পুর্ণ টাকা ফেরত দিলেও তার দেয়া চেগের পাতাটি আনোয়ার মিয়ার কাছে রয়ে যায়। বর্তমানে ওই চেগের পাতা দিয়ে আনোয়ার মিয়া তার বিরুদ্ধে ৯লাখ টাকার একটি মামলা করেছেন। মামলাটি কোর্টে বিচারাধীণ আছে। এছাড়াও গ্রামবাসীর সাথে আসা তার আপন ছোট ভাই জিতু মিয়া বলেন, আনোয়ার মিয়ার অত্যাচারে পৈত্রিক সম্পদ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাড়িঘর ছাড়া। একই দাবি করেন তার বোন জ্যোম্না বেগমও। তার আপন চাচা আলী হোসেন অ্যাঙ্গরেজ বলেন, বাজারের পাশে তার কিছু জমি ছিলো। আর এই জমিটি নেয়ার জন্য আনোয়ার মিয়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে হয়রানিমুলক ২২টি মামালা করেন। প্রাণে বাঁচতে গিয়ে তাকে ওই জমিটি দিতে বাধ্য হন।
এসময় দুই গ্রামবাসীর মধ্য থেকে থানায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আ’লীগের সাবেক সভাপতি হাজী মজম্মিল আলী, স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজর আলী, মুরব্বি মঞ্জুর আলী, সুহেল মিয়া, আফিজ আলী, জাহির আলী, সুহেল তালুদার, সালমান রব্বানী, মামুনুর রহমান, নোমান আহমদ, বাছিত মিয়াসহ প্রায় শতাধিক লোকজন। পরে ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিষয়টি আপোষে নিস্পত্তি করবেন বলে উপস্থিত জনসাধারণকে শান্তনা দেন।