‘ইমরানের ক্ষমতায় পাকিস্তান আরও আক্রমণাত্মক’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান আগের তুলনায় বেশি আক্রমণাত্মক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান জেনারেল কেকে শর্মা। সূত্র: এনডিটিভি

অতীতের তুলনায় পাকিস্তান এখন বেশি মারমুখী মনোভাব দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নিহত বিএসএফ জওয়ান নরেন্দ্র সিং প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে শুক্রবার তিনি এসব মন্তব্য করেন।

জেনারেল কেকে শর্মা বলেন, যদিও সীমান্তে কোনো পরিবর্তন বা উত্তেজনা ছিলনা তবু আমরা আন্তর্জাতিক সীমান্তে এখন ব্যাট অ্যাকশন (এক ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার) দেখছি, যা এর আগে কোনোদিন ঘটেনি। এ অস্ত্রের ব্যবহার সাধারণত ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে হয়ে থাকে।

নিহত বিএসএফ জওয়ান নরেন্দ্র সিং প্রসঙ্গে বিএসএফ প্রধান বলেন, সেদিনের আগে কোনো গোলাগুলি হয়নি। কিন্তু আমরা তাকে পা বাঁধা অবস্থায় পেয়েছিলাম ও তার বুকে তিনটি গুলির ক্ষত দেখেছি। অথচ পাকিস্তান সেনারা এ হত্যাকাণ্ডের কথা অস্বীকার করেই যাচ্ছিলেন।

কেকে শর্মা আরও বলেন, ‘আমরা যখনই তাদের সঙ্গে এ ধরনের কোনো কিছু করতে যাই, পাকিস্তান এতে বাধা দেয়, আকাশে ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

তবে যখনই তারা আমাদের লক্ষ্য করে আক্রমণ করে, তখন এর জবাব দেয়া আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের কৌশলগত কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে মন্তব্য করেন বিএসএফ প্রধান।

তবে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য বিএসএফ সাবধানতা অবলম্বন করছে বলে জানান কেকে শর্মা।

এরপর জেনারেল শর্মা অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের নীতিই হলো ভারতে সন্ত্রাসীদের ঠেলে দেয়া।

এর আগে মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে কাশ্মীরে পাকিস্তানি হামলা ও জঙ্গি সন্ত্রাসের মোকাবেলায় ফের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে বক্তব্য দিয়েছিলেন ভারতের সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত।

তার পাল্টা জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর বলেন, আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, তবে পাকিস্তানের জনগণ শান্তি চায়।

প্রসঙ্গত চলতি বছরের মে মাসে সীমান্তে অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন থামানোর প্রস্তাব দেয় পাকিস্তান। এ ছাড়াও ইমরান খান তার নির্বাচনি বক্তিতায় ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

ভারতের দাবি, পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর থেকেই ইমরান খান শান্তির কথা বললেও প্রতিনিয়তই সীমান্তে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে পাক সেনারা।

তাই পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বাতিল করেছে ভারত।