তাহিরপুরে গ্রেফতার আত্নংকে বিএনপি নেতাকর্মীরা,আটক ১০নেতা কারাগারে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় নাশকতার মামলায় র্দীঘ দিন ধরে ফেরারী থাকায় বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে বিএনপির নেতৃবৃন্ধ। অনেক বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন প্রায় গৃহবন্ধী ও অনেকেই আবার এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। সভা,মিটিংসহ আগামী নির্বাচনী কার্যক্রম সব একেবারেই বন্ধ এছাড়া কোন বিকল্প ব্যবস্থা নেই। মামলা হওয়ার পর থেকেই পুলিশ আটক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। গত বুধবার(২৬সেপ্টেম্ভর) তাহিরপুর উপজেলা বাদাঘাট ইউনিয়নের বাদাঘাট বাজার থেকে উপজেলা সদর ইউনিয়নের যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক শাহজাহান কবীরকে গ্রেফতার করেছে তাহিরপুর থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে জেলে হাজতে পাঠানো হয়েছে। এপর্যন্ত তাহিরপুর পুলিশের দায়র করা নাশকতার ৪২জনের নাম উল্লেখ্য করে ও আজ্ঞাত আরো ৪০/৫০জনকে আসামী করে মামলায় এ পর্যন্ত ১০জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে আ,লীগ ও সহযোগী সংঘটন রয়েছে ব্যাপক প্রচার ও প্রচারনায়। আর বিএনপি একবারেই কোনটাশা অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের পর থেকে আইনি ঝামেলা এড়াতে এলাকা ছেড়ে ঘা ডাকা দিয়েছে নেতাকর্মীরা। এদিকে তাহিরপুর উপজেলা ছাড়াও জেলার ১১টি উপজেলা গত ১লা সেপ্টেম্ভর বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্টা বার্ষিকী পালনের জন্য প্রস্তুতি নিলে নাশকতার অভিযোগ তুলে পুলিশ পৃথক পৃথক থানায় ৪৫৬জনকে মামলায় আসামী করে পুলিশ। তাহিরপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় গ্রেফতার করে অর্ধশতাধিক বিএনপির নেতাকর্মীকে। এর মধ্যে অনেকেই জামিন পেয়েছেন।
জানাযায়,বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্টা বার্ষিকী পালনের জন্য গত ১লা সেপ্টেম্ভর তাহিরপুর উপজেলার দুটি গ্রুপের মধ্যে নজির হোসেন সমর্থিত স্থগিত কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম পশ্চিম বাজারে ও আনিসুল হক গ্রুপ সমথির্ত স্থগিত কমিটির সাধারন সম্পাদক জুনাব আলী পূর্ব বাজারে দলের ৪০তম প্রতিষ্টা বার্ষিকীর অনুষ্টান পালন করার জন্য প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু রাত (৩১আগষ্ট) সাড়ে দশটায় নজির হোসেন সমর্থিত সাধারন সম্পাদক রুহুল আমিনসহ ৭জন নেতাকর্মীকে আটক করে। পরে ৪২জনের নাম উল্লেখ্য করে অজ্ঞাত আরো ৪০/৫০জন বিএনপির নেতাকর্মীর নামে নাশকতার মামলা দায়ের করে তাহিরপুর থানা পুলিশ। এর পর ১লা সেপ্টেম্ভর সকাল থেকে তাহিরপুর থানা পুলিশ উপজেলার প্রবেশ মূখ থেকে পশ্চিম বাজার পর্যন্ত বিশৃংখলা এড়াতে পয়েন্টে পয়েন্টে সন্ধ্যা পর্যন্ত অতিরিক্ত পুলিশ অবস্থান করে। পুলিশের অবস্থানের কারনে উপজেলার দলীয় কার্য্যালয়ে আসতে পারে নি আর বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্টা বার্ষিকীর অনুষ্টান পালন করতেও পারে নি বিএনপির নেতাকর্মীরা।
নাশকতার অভিযোগে তাহিরপুরে আটক বিএনপি নেতাকর্মীরা হলেন,তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক রুহুল আমিন,যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুবুর রহমান,প্রচার সম্পাদক সাজিদুল হক,সদস্য কামাল পাশা,উপজেলা শ্রমিক দল সভাপতি ফেরদৌস আলম ও সাধারন সম্পাদক এমদাদুল হুদা,ছাত্রদল নেতা আবু হোরায়রা সোহাগ প্রমুখ।
এদিকে আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি,মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরোদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হক। এছাড়াও উপজেলা ও জেলার বিএনপির নেতৃবৃন্ধ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নন্দন কান্তি ধর জানান,নাশকতার চেষ্টায় মামলাও হয়েছে। শুক্রবার (৩১আগষ্ট) রাতে উপজেলা সদরের পূর্ব বাজার গোপন বৈঠক করার সময় বিএনপির ৭জনকে আটক করা হয়। এছাড়াও এপর্যন্ত ১০জনকে বিএনপির নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উপজেলায় আইন শৃংখলা রক্ষায় সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপারের নির্দেশে আমরা পুলিশ বাহিনী সার্বক্ষনিক সর্তক আছি।