পাকা সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ায়- দায়ী কে?

>>>>মোঃ ফজল খান<<<<
যেখানে পাকা সড়ক, সেখানে বাজার, দোকান, বাসা ও বাড়ি গড়ে উঠেছে। দেখা গেছে-পাকা সড়কের পাশে দোকান কোঠা, দেয়াল থাকায় প্রতি বছর সড়কের বেহাল দশা হচ্ছে। তার কারণ- সড়কের পানি যাতায়াত বন্ধ করে সড়কের উপর এসব দালান তৈরী করার ফলে প্রতি বর্ষার মৌসুমে পাকা সড়কে মিনি পুকুর, ছোট বড় গর্ত হয়ে জনসাধারণের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
প্রতি বছর সড়ক সংস্কারের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হচ্ছে, কাজও হচ্ছে। সরকার ধারাবাহিক ভাবে দেশ উন্নয়ন ও জাতির আরাম আয়েশের জন্য টাকা বরাদ্দ কম দিচ্ছে না। কিন্তু কিছু লোভী মানুষের জন্য পাকা রাস্তা ভেঙ্গে যাচ্ছে। সড়কের পানি যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে সড়কের উপর প্রতিনিয়ত গড়ে উঠেছে পাকা দালান কোঠা ও দেয়াল। বাংলাদেশের প্রতিটা অঞ্চলের এলজিডি সড়ক ও সিএমপি সড়কের সাথে সংযুক্ত করে নির্মাণ করা হচ্ছে এসব দালান। তাই সড়কের পানি যাতায়াত করতে না পারায় পানি জমাট হয়ে সড়ক ভেঙ্গে যাচ্ছে। পাকা সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে প্রতিনিয়ত।
সিএমপি রোড ও এলজিডি রোডের নির্দিষ্ট প্রস্থ মাপ আছে। কিন্তু জেলা প্রকৌশলী (রোডস্ কর্মকর্তা) ও উপজেলা প্রকৌশলীর এসবের কোন নজর নেই। নেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র।
প্রতিটা সড়কের মাপের মধ্যে অবৈধ ভাবে দোকান, বাসা ও বাড়ি নির্মাণ করে পানির যাতায়াত বন্ধ করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে।
এদিকে গাড়ির ওভার লোড তো আছেই। ৫ টন ট্রাক ১৫ টন মাল পরিবহন করছে। ১০ টন ট্রাক ৩০/৩৫ টন মাল সরবরাহ করছে। বিআরটিএ কর্মকর্তার মাথা ব্যথা নেই। ট্রাফিক সার্জেন্টের এসব দেখার সময় নেই। ট্রাফিক পুলিশ ২০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা আদায়ের প্রয়োজন। এখানে ওভার লোডের ফলে পাকা রাস্তা ভাঙ্গলে কি আর না ভাঙ্গলে কি। বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশের কিছু যায় আসে না।
এদিকে যখন সরকার রাস্তা সংস্কারের জন্য টাকা বরাদ্দ করার পর টেন্ডার কাজ সম্পন্ন করা হয়, কিন্তু ঠিকাদার গুণতমানের মালামাল ব্যবহার করছে কি না, সেটা দেখবে কে? সরকার তো সঠিক সময়ের মধ্যে টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে- এখন আমাদের প্রশ্ন এগুলো দেখার দায়িত্ব কার?
সড়ক ভেঙ্গে গেলে সরকারের দূষ, জনপ্রতিনিধির দূষ। কিন্তু সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ার আসল কারণ আমরা খুঁজিনা। আমার মনে হয়- যতদিন পর্যন্ত সড়কের উপর দুই পাশের অবৈধ দালান কোঠা, দেয়াল ও বাসা বাড়ি উচ্ছেদ হবে না, তত দিন সড়কের বেহাল দশা কমবে না। শুধু শুধু সরকারের কোটি কোটি টাকা জলে বেসে যাবে।

লেখক- সাংবাদিক ও আহবায়ক, বাঁচাও বাসিয়া নদী ঐক্য পরিষদ।