নদী দখলে সরকারদলীয় নেতারা, সহযোগিতায় প্রশাসন –নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান

সময়ের ডাক: নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, একাত্তরে রাজাকার আলবদররা দেশের মানুষকে খুন করেছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে যারা নদী দখল ও নদীকে খুন করছে তারাই এসময়ের রাজাকার আল বদর।

তিনি শনিবার দুপুরে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ও জেলা প্রশাসন আয়োজিত সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং ও তামাবিল এলাকার নদ-নদী দখল, পানি ও পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে মত বিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে সরকার দলীয় নেতারাই নদী দখল ও দূষণ করছে। আর তাদের সহযোগিতা করছে স্থানীয় প্রশাসন। সিলেট অঞ্চলে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীও উদ্বিগ্ন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সরেজমিনে পরির্দশন করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই আমি সিলেটে এসেছি। এসময় নদী ও পরিবেশ বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

জাফলংকে তার আগের রূপে ফিরিয়ে আনারও প্রতিশ্রুতি দেন নৌমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে যদি কেউ আওয়ামীলীগকে ফু দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার কথা চিন্তা ভাবনা করে থাকে তাহলে, সেই চিন্তা হবে দিবাস্বপ্নের মতো। কারণ আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর নাম দেশের মানুষের হৃদয়ের সাথে মিশে আছে। তাই মানুষের হৃদয় থেকে এ দুটি নাম ফু দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন আওয়ামী লীগ সরকার টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় আছে বলেই সবদিক থেকে দেশ সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আগে বিদেশ থেকে খাদ্যদ্রব্য আমদানি করা হতো। এখন দেশের উৎপাদিত খাদ্যশস্য দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রফতানি করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন বলে মহান মুক্তিযোদ্ধের চেতনা উজ্জীবিত রয়েছে। তাই দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস রক্ষায় আগামী সংসদ নির্বাচনে সবাইকে নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

জামায়ত, বিএনপিসহ স্বাধীনতা বিরোধীদের সকল ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করতে হবে জানিয়ে শাজাহান খান বলেন, কার সাথে আলোচনা বা ঐক্য করব? জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের সাথে আলোচনা করে দেশের কোনো কল্যাণ হবে না। যারা মানুষ হত্যা করে তাদের সাথে কোনো আলোচনা হতে পারে না। কারণ বিএনপি-জামায়াতের আগুন সন্ত্রাসীদের হাতে দেশের মানুষ নিরাপদ নয়।

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার ও সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চেীধুরী। এতে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান।

সভায় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কৃতপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তী, জাতীয় নদী রক্ষা কমিটির সদস্য শারমিন মোর্শেদ, সিলেট জেলা নদী রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, সিলেট জেলা পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সিলেটের উপ-পরিচালক ও নদী রক্ষা কমিশনের সার্বক্ষনিক সদস্য মো. আলাউদ্দিন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী উৎপল সামন্ত, সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের উপ-পরিচালক আলতাফ হোসেন, সিলেটের কৃষি অধিদপ্তরের পরিচালক আবুল হোসেন, সিলেট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি’র (বেলা) সিলেটের সমন্বয়কারী এডভোকেট শাহ শাহেদা আক্তার, গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত কুমার পাল, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম, সারী নদী বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি আব্দুল হাই আল হাদী প্রমুখ।

মত বিনিময় শেষে বিকেলে তিনি তামাবিল স্থলবন্দর উন্নয়ন ও পরিচালনায় গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে গঠিত উপদেষ্টা কমিটির ১ম সভায় অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে সকালে মন্ত্রী জাফলং পৌঁছে বিজিবি’র সংগ্রাম সীমান্ত ফাঁড়ি এলাকা থেকে পিয়াইন ও ডাউকী নদীর দূষণ পরিস্থিতি পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষন করেন।