বিশ্বনাথে সিগারেটের আগুন দিয়ে শিশুকন্যার শরীরে ছ্যাঁকা : এক লম্পটকে আটক

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: সিলেটের বিশ্বনাথে ১৩ মাস বয়সী এক শিশুকন্যার গোপনাঙ্গ ও কোমরে সিগারেটের আগুণ দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগে লিয়াকত আলী (৩২) নামের এক লম্পটকে আটক করেছে পুলিশ। সে উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নরে কাদিপুর গ্রামের মৃত আছকন্দর আলীর পুত্র। শিশুকন্যার মায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১২সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
জানাযায়, উপজেলার শ্রীপুর পাঁচঘরী গ্রামের বাবুল মিয়ার স্ত্রী মিনারা বেগম (৩৮) স্বামীর সাথে অভিমান করে বড়পুত্র এমরান আহমদ ও শিশুকন্যাকে সাথে নিয়ে প্রায় ১৭ দিন পূর্বে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এরপর তারা কাদিপুরস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পার্শ্ববর্তি লিয়াক আলীর কলোনীতে ভাড়াটিয়া হিসেবে আশ্রয় নেন। সপ্তাহ খানেক পূর্বে মিনারা বেগমকে কু-প্রস্তাব দেন লিয়াকত আলী। এতে মিনারা বেগম রাজি না হওয়ায় তার ১৩ মাসের শিশু কন্যা নুসরাত ফারিহা’র গোপনাঙ্গে মরিচের গুড়ো লাগিয়ে দেন লিয়াকত। সর্বশেষ গত সোমবার রাত ৮টায় মিনারা বেগম কলোনীর পার্শ্ববর্তি এক আত্মীয়ের বাড়ি গেলে ফিরে এসে দেখতে পান তার মেয়ে নুসরাত ফারিহা কান্নাকাটি করছে। এসময় তিনি নুসরাতের গোপনাঙ্গ ও কোমরে একাধিক সিগারেটের আগুণের ছ্যাঁকা দেখতে পান। এরপর শিশুকন্যাটিকে নিয়ে তার মা হাসপাতালে যেতে চাইলে স্থানীয় কিছু মাতব্বর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাদেরকে (শিশুকন্যা ও তার মা) অভিযুক্ত লিয়াকত আলীর ভাই সুরুজ আলীর বাড়ি নিয়ে যান। খবর পেয়ে থানার এসআই মিজানুর রহমান ওই রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। পরদিন মঙ্গলবার বিশ্বনাথ থানায় মিনারা বেগম অভিযোগ দায়ের করলে বুধবার দুপুরে প্রধান অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে পুলিশ আটক করে। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা রেকর্ডের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন থানার এসআই মিজানুর রহমান।
এব্যপারে ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগটি পাওয়ার পর আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।