প্রচ্ছদ > রাজনীতি > সিলেটে সহজে ছাড় পাচ্ছেন না মোমেন

সিলেটে সহজে ছাড় পাচ্ছেন না মোমেন

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ সিলেট প্রতিক্ষণ

সময়ের ডাক ডেস্ক :সিলেটে সহজে ছাড় পাচ্ছেন না অর্থমন্ত্রীর ছোট ভাই জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিবিদ ড. একে আবদুল মোমেন। জনপ্রতিনিধিত্ব থেকে বিদায় নেয়া অর্থমন্ত্রীর ছেড়ে দেয়া এ আসনে প্রার্থী হতে হলে ড. মোমেনকে কঠিন লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে হবে দলের অভ্যন্তরে। সিটি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এমন আভাসই পাওয়া যাচ্ছে সিলেট আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। আর অর্থমন্ত্রী যতই তার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন ততই স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের কয়েকটি বলয় তার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ দাঁড়াচ্ছে। মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনের বর্তমান এমপি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

দুই মেয়াদে টানা ১০ বছর তিনি সিলেটের এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে এ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন প্রয়াত স্পিকার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী। প্রয়াত এই স্পিকারের মৃত্যুর পর নির্বাচনী রাজনীতির মাধ্যমে সিলেটে নির্বাচনে নেমেছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

তবে ২০০১ সালে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে তিনি সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের কাছে পরাজয় বরণ করেন। দ্বিতীয় বার ২০০৮ সালের নির্বাচনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নির্বাচিত হন।

২০১৪ সালের নির্বাচনে তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তিনি বিনা ভোটে এমপি নির্বাচিত হন। প্রায় তিন বছর আগে সিলেটের রাজনীতিতে অভিষিক্ত হন ড. একে আবদুল মোমেন। জাতিসংঘ মিশন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই তাকে দেশে নিয়ে আসেন। ড. মোমেন সিলেটের রাজনীতিতে অভিষিক্ত হওয়ার পর গত তিন বছর ধরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে অর্থমন্ত্রীর ছায়াসঙ্গী হয়ে বিচরণ করছেন। ইতিমধ্যে সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে নানা ডায়ালগে অংশ নিয়েছেন তিনি। সিলেটের আগামী উন্নয়ন নিয়ে তার ভাবনার বিষয়টিও নানা সময় তুলে ধরেছেন। প্রয়াত স্পিকার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর হাত ধরে শুরু হয়ে সিলেট উন্নয়নের একটি পর্ব শেষ হয়েছে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের জমানায়। প্রবাসী শহর সিলেট এখন উন্নত জনপদ। এরপরও উন্নয়ন নিয়ে নানা আক্ষেপ রয়ে গেছে বিভিন্ন মহলে।

এর কারণ প্রবাসী শহর হিসেবে সিলেটে আরো উন্নয়ন চায় মানুষ। আর এই উন্নয়নের সঙ্গে ড. মোমেনের ভাবনার মিল থাকায় তিনি ইতিমধ্যে সুধী সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। এরপরও ড. মোমেন সিলেট-১ আসনে সহজেই ছাড় পাচ্ছেন না। স্থানীয় আওয়ামী লীগ মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ এখন ‘রাজনীতিবিদ জনপ্রতিনিধি’ চায়। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের এই দাবি আরো জোরালো হয়েছে। সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে টিকিট পেতে অনেক আগে থেকেই দৌড়ঝাঁপ করছেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। ইতিমধ্যে তিনি সিলেটে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন। ফলে আগামী নির্বাচনে এ আসন থেকে অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ দলের মনোনয়ন চাইবেন। প্রার্থিতা নিয়েই বিগত দিনে সব সময় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে গেছেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ।

সেই লড়াই প্রকাশ না পেলেও জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেটি আর আড়ালে থাকবে না বলে দলের নেতারা মনে করছেন। সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরাজয় বরণের পর আর দলীয় ফোরামের কাছে মনোনয়ন চাইবেন না বলে গত ৩০শে আগস্ট সিলেটের শোক সভায় ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। এরপরও কামরানের উপর নিজ বলয়ের নেতা-কর্মীদের চাপ রয়েছে। সিলেট-১ আসনে প্রার্থী হতে কামরান বলয়ের নেতারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন- সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরপর দুই বার কামরানের পরাজয়ের পেছনে ছিল দলীয় কোন্দল। সর্বশেষ গত ৩০শে জুলাইয়ের নির্বাচনে পরাজয়ের পর সেটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ কারণে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলের শীর্ষ নেতাকর্মীদের নিয়ে ৩০শে আগস্ট সিলেটে সফর করে গেছেন।

সিলেটের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠকও করেছেন তিনি। ওই বৈঠকে কামরানের পরাজয়ের জন্য দলের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বক্তব্যের সমালোচনা করা হয়। এ কারণে বলয়ের নেতাকর্মীরা আগামী সংসদ নির্বাচনে সিলেটের মর্যাদাপূর্ণ এ আসন থেকে কামরানকেই প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায়। এদিকে রাজনীতির বাইরেও সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের পছন্দের প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন।

সিলেট-১ আসনে নির্বাচনী রাজনীতির মাধ্যমে মাঠে নামতে চান বলে এরই মধ্যে তিনি স্বজনদের জানিয়ে দিয়েছেন। আর ছহুল হোসাইনের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের যোগাযোগ বেড়েছে। গত ৬ মাসে যতবার ছহুল হোসাইন সিলেটে বেড়াতে এসেছেন ততবারই তার সঙ্গে বিভিন্নভাবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাক্ষাৎ হয়েছে। তবে এখনো প্রকাশ্যে ছহুল হোসাইন কোনো ঘোষণা দেননি।

স্বজনরা জানিয়েছেন- ছহুল হোসাইন টিকিট পেলে নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতি অভিষিক্ত হতে পারেন। তবে কোনো দল থেকে তিনি প্রার্থী হবেন সেটি এখনো বলেননি। সিলেট আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা।

তিনি সিলেট আওয়ামী লীগের মুরব্বি। তিনি যদি এবার প্রার্থী হতেন তাহলে তাকে অন্যরা ছাড় দিতেন। কিন্তু ড. মোমেন হচ্ছেন নবাগত নেতা। এখনো সিলেট আওয়ামী লীগের সব অংশের নেতাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক স্থাপন হয়নি। ফলে নির্বাচনে দলের ভেতরে তার প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন। সিলেটে দলের অভ্যন্তরের এই লড়াইয়ে উতরেই নির্বাচনে প্রার্থী হতে হবে ড. মোমেনকে।

সূত্র- মানবজমিন