ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিষ্টাতার উপর চুরির মামলা : নিন্দা ও প্রতিবাদ

সময়ের ডাক:সিলেট জেলা ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের পাল্টা পাল্টি কমিটির বিরোধ এখন সংঘাত ও ব্যক্তিগত আক্রোশে রুপ নিয়েছে। মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি ক্ষমতাকে স্থায়ী করতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এরই অংশ হিসেবে সংগঠনের প্রতিষ্টাতা সাধারণ সম্পাদক ও পাল্টা কমিটির আহবায়ক মোঃ মাখন মিয়া’সহ প্রতিষ্টাকালীন মুরব্বীয়ানদেরকে একটি চুরির মামলার আসামী করা হয়েছে। ফলে প্রায় ৮০ভাগ শ্রমিকের মধ্যে উত্তেজনা ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিষ্টাতা সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি দক্ষিণ সুরমায় হওয়ায় মোগলাবাজার-দক্ষিণ সুরমার সকল পরিবহণ শ্রমিক ঐকবদ্ধ হয়ে বিক্ষোভ করেছেন।
জেলা ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি দিলু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুরের নেতৃত্বাধীন কমিটি দীর্ঘ সাড়ে সাত মাস ধরে অবৈধ ভাবে প্রভাব খাটিয়ে ক্ষমতায় আসীন রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সংগঠনের ১০হাজার ট্রাক শ্রমিক লক্ষ লক্ষ টাকা আতœসাতের অভিযোগ করেন। বিশেষ করে সাধারণ সম্পাদক গফুর মিয়ার অবৈধ সম্পদের ব্যাপারে উত্তেজনা ও বিশৃংখলার সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই সংগঠনটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। সাধারণ শ্রমিকরা প্রতিষ্টাতা সাধারণ সম্পাদক মাখন মিয়াকে আহবায়ক করে ৭জনের একটি কমিটি করেন। এরপর থেকে ভাটা পড়ে যায় দিলু-গফুরের মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির। একপর্যায়ে তারা শুরু করেন বহিষ্কার ও বিভিন্ন আঞ্চলিক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত’সহ মামলা দিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত। বহিষ্কার করা হয় প্রতিষ্টাতা’সহ অনেক শ্রমিক নেতাকে। সংগঠনের অফিসে দেশীয় অস্ত্র এনে রাখা হয় সাধারণ শ্রমিকদের উপর হামলা করার জন্য। ইতিমধ্যে গোলাপগঞ্জ আঞ্চলিক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত ও বিভিন্ন কমিটিকে হুশিয়ারী করা হয়েছে। যাতে করে উপ কমিটিগুলোতে আর ফাটল সৃষ্টি না ধরে।
এ ব্যাপারে জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দিলু মিয়া বলেন, নির্বাচন দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ব্যক্তি আক্রোশে কোন মামলা হয়নি। বরং চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে। এদিকে সংগঠনের প্রতিষ্টাতা সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মাখন মিয়া, প্রবীন মুরব্বী ও যুগ্ম আহবায়ক মনিরুল ইসলাম মনির এবং যুগ্ম আহবায়ক মন্তাজ মিয়ার উপর দায়ের করা মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংগঠনের প্রবীন, সাবেক ও ১৩ থানা আঞ্চলিক কমিটির নেতৃবৃন্দ। এক বিবৃতিতে তারা দায়েরকৃত মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা মামলা প্রত্যাহার করে সংগঠনের মধ্যে সুষ্ট পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে নেতৃবৃন্দের জোর দাবী জানান। নিন্দা জ্ঞাপনকারীরা হলেন, জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব আজাদ মিয়া, আলহাজ্ব জমির আলী, হাজী জমির মিয়া, সমছু মিয়া, আব্দুল হালিম আবুল, সাবেক সভাপতি আবু সরকার, তোতা মিয়া তুতি, মোহাম্মদ আলী, আবুল মিয়া, ছালিক মোল্লা, গেদু মিয়া, আব্দুল মতিন, আব্দুল মন্নান, আনোয়র হোসেন, দক্ষিণ সুরমা-মোগলাবাজার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোঃ কাউছার আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমদ, শাহপরাণ থানা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি ফুল মিয়া, সম্পাদক রহিম মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিল, গোলাপগঞ্জ থানা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি বদরুল ইসলাম, সম্পাদক ছায়েল আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শাকেল আহমদ শাকিল, কানাইঘাট থানা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি জসিম উদ্দিন, সম্পাদক দেলোওয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ আহমদ হারিছ, গোয়াইনঘাট থানা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি ফয়জুল ইসলাম, সম্পাদক আব্দুর রহিম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম, জৈন্তাপুর থানা আঞ্চলিক কমিটির সম্পাদক শফিকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম, জালালবাদ থানা আঞ্চলিক কমিটির সম্পাদক মোঃ আলমগীর, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জালাল উদ্দিন, জকিগঞ্জ থানা আঞ্চলিক কমিটির সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সহ সম্পাদক আব্দুল আজিম, ওসমানীনগর থানা আঞ্চলিক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমজাদ হোসেন, ফেঞ্চুগঞ্জ থানা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোঃ রাসেল আহমদ টিটু, সম্পাদক মোঃ লালু মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ লেবু মিয়া প্রমূখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি