সিলেটের উন্নয়নে আমরা এক ও অভিন্ন: আরিফ

সময়ের ডাক :সিলেট সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচন চলে গেছে, সেই সাথে চলে গেছে আমাদের বিভেদ। সিলেটের উন্নয়নে এখন আমরা এক ও অভিন্ন। নগরের উন্নয়নে দলমত নির্বিশেষে সবার ইস্পাতকঠিন ঐক্য প্রয়োজন। দ্বিতীয় মেয়াদে নগরবাসীর সেবা করার সুযোগ দেয়ায় তিনি নগরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ে তুলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

মঙ্গলবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাব-মহিবুন্নেছা সম্মাননা ২০১৮ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সিনিয়র সাংবাদিক ইকবাল কবিরকে এবার এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সিলেট প্রেসক্লাবের আমিনুর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে নবীন-প্রবীণ সাংবাদিকরা অংশ নেন। ক্লাব সভাপতি ইকরামুল কবিরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল মালিক চৌধুরী এবং প্রেসক্লাবের আইন উপদেষ্টা ও সিলেট স্টেশন ক্লাবের সভাপতি এডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিসিকের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী আরও বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই ইকবাল কবিরকে একজন সৎ, নির্ভীক, ভাল সাংবাদিক হিসেবেই চিনতাম। তিনি সিলেটে নিষ্ঠাবান সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ইকবাল কবিরদের ধারাবাহিকতায় সিলেটের সাংবাদিকতা দায়িত্বশীলতার পথে এগিয়ে যাবে, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মেয়র।

সম্মাননা প্রাপ্তিতে অভিব্যক্তি প্রকাশ করে সিনিয়র সাংবাদিক ইকবাল কবির বলেন, কিছুদিন আগেও শারীরিকভাবে আমি অসুস্থ ছিলাম। অনেকটা মৃত্যুর দ্বার থেকে ফিরে এসেছি, হয়তো এ ধরনের সম্মাননা পাওয়ার জন্যই।

সিলেটের সোনালী দিনের সাংবাদিকতার ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সকল লোভ লালসার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। তবেই সাধারণ মানুষের সম্মান ও ভালবাসা পাওয়া যাবে।

অনুষ্ঠানে সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল মালিক চৌধুরী বলেন, সিলেটে যখন হাতেগোনা কয়েকজন সাংবাদিক ছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ইকবাল কবির। সিলেট প্রেসক্লাব তাঁর মত গুণী সাংবাদিককে সম্মান জানিয়ে সবচেয়ে ভাল কাজটি করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি ইকবাল কবিরকে একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিক ও সফল সংগঠক হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ক্লাবের আইন উপদেষ্টা এডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিককালে সিলেট প্রেসক্লাবে গুণীদের মূল্যায়ন ও নবীনদের পরিচর্যার কাজ বেড়েছে। এটিই পেশাগত প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানের আসল দায়িত্ব। ভবিষ্যতে এ ধারা অব্যাহত রাখতে সিলেট প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য সাংবাদিক-কলামিস্ট আফতাব চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি এনামুল হক জুবের, সহসভাপতি এমএ হান্নান, সাবেক সহসভাপতি ও দৈনিক জালালাবাদের নির্বাহী সম্পাদক আবদুল কাদের তাপাদার, সাবেক সহসভাপতি আতাউর রহমান আতা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সমরেন্দ্র বিশ্বাস সমর ও মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, গল্পকার সেলিম আউয়াল, সিলেট প্রেসক্লাবের পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক খালেদ আহমদ, দৈনিক সংগ্রামের সিলেট ব্যুরো প্রধান কবির আহমদ ও ক্লাব সদস্য গোলাম মর্তুজা বাচ্চু।

অনুষ্ঠানে ইকবাল কবিরের জীবনী তুলে ধরেন ক্লাবের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক নূর আহমদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ মো. রেনু, ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ শাহাব উদ্দিন শিহাব, সাবেক কোষাধ্যক্ষ মো. আফতাব উদ্দিন, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য দিগেন সিংহ, ক্লাব সদস্য এনামুল হক, দুলাল হোসেন, জাবেদ আহমদ, নৌসাদ আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা নিবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবী মরহুম ইয়াহিয়া চৌধুরীর পত্নী মহিবুন্নেছা চৌধুরীর স্মৃতি রক্ষার্থে তাঁর সন্তানদের মহতি উদ্যোগ ‘মহিবুন্নেছা স্মৃতি সম্মাননা’। সমাজহিতৈষী এই মহিলার ৯ সন্তানের সকলেই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। তাঁদেরই দেয়া অর্থায়নে ‘সিলেট প্রেসক্লাব-মহিবুন্নেছা স্মৃতি সম্মাননা’ তহবিল গঠন করা হয়।