প্রচ্ছদ > জাতীয় > নয় দফা দাবি বাস্তবায়ন শুরু হলে ঘরে ফিরে যাও: ইলিয়াস কাঞ্চন

নয় দফা দাবি বাস্তবায়ন শুরু হলে ঘরে ফিরে যাও: ইলিয়াস কাঞ্চন

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ

সময়ের ডাক ডেস্ক: নয় দফা দাবি বাস্তবায়ন শুরু হলে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নিরাপদ সড়ক চাই’র (নিসচা) চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেছেন, রোববার থেকে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না করা হলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সড়কে নামবো।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নিসচার মানববন্ধনে ইলিয়াস কাঞ্চন এ কথা বলেন। এতে নিরাপদ সড়কসহ শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের নয় দফা দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করা হয়।

সরকারের উদ্দেশ্যে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের যেসব দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে, তা আগামীকাল থেকে বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে। সরকার এসব কাজ শুরু করলে শিক্ষার্থীরাও ফিরে যাবে। তিনি বলেন, প্রথম কাজ হচ্ছে রাস্তায় যারা ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করেন, তাদের নিজেদের লাইসেন্সগুলো ঠিক করা। এজন্য অধিদফতর ও মন্ত্রণালয় থেকে যেন নির্দেশনা আসে। এ ছাড়া অনেকে পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহারের উপযুক্ত না হয়েও তা ব্যবহার করছেন। আইন অমান্য করে মন্ত্রীরা উল্টোপথে চলছেন। তারা যেন জাতির কাছে বলেন- ‘আমরা এ কাজ আর করবো না। আমরা সন্তানদের কাছ থেকে শিক্ষা পেয়েছি, আর এটা করবো না, নিয়ম মেনে চলবো। বাবারা তোমরা ঘরে ফিরে যাও।’ এভাবে যদি বলে নিশ্চয়ই সন্তানরা ঘরে ফিরে যাবে।

ইলিয়াস কাঞ্চন আরও বলেন, সব অধিদফতর যদি তাদের কর্মকাণ্ড শুরু করে দেয়, তাহলে সন্তানদের উদ্দেশে বলবো- ‘তোমরা অবশ্যই ঘরে ফিরে যাবে, লেখাপড়া করবে। বাবা-মায়ের কাছে থাকবে।’ প্রয়োজনে আবারও যদি কোনো অসুবিধা হয়, তখন অবশ্যই তোমাদের সঙ্গে থেকে আবার রাজপথে নামবো।

আন্দোলনরতদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, গাড়ি ভাংচুর করা যাবে না। আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে অন্য কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। আর সড়ক নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত এ লড়াই চলবে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আগে যোগ না দেওয়া প্রসঙ্গে নিসচা চেয়ারম্যান জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই এ আন্দোলন করে আসছেন। এর আগে অনেকবার আন্দোলন থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে তিনি সরাসরি যুক্ত থাকলে তার ওপর সব দোষ চাপিয়ে দেওয়া হতো। তার এই আন্দোলন ২৫ বছরের, যাতে এখন স্বতঃস্ম্ফূর্তভাবে শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, পরিবহন খাতের নেতৃত্বে থাকা সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দায়িত্বহীন কথাবার্তায় আজ পরিবহন খাতে যে অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে- তার বিরুদ্ধেই আজকের মানববন্ধন। এর মাধ্যমে সরকার বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই- এটি মানুষের প্রাণের দাবি। এদেশের মানুষ আর সড়কে মরতে চায় না। পঙ্গুত্ব বরণ করতে চায় না।

ইলিয়াস কাঞ্চনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন নিসচা’র উপদেষ্টা ও বিআরটিএ’র সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান, মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম, বাস থেকে ফেলা দেওয়ার পর নিহত ছাত্র পায়েলের মামা সোহরাওয়ার্দি বিপ্ল্লব, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সভাপতি লায়লা হাসান প্রমুখ।

এদিকে নিসচার মানববন্ধনের সময়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণসংহতি আন্দোলন, সেভ দ্যা রোড, সন্ধীপ সমিতি ঢাকা, সাধারণ ছাত্র পরিষদ ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি দল ও সংগঠন নিরাপদ সড়কের দাবিতে মানববন্ধন করে।