শান্তিপূর্ণ ভোট হবে তো?

সময়ের ডাক ডেস্ক: সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণা শেষ হয়েছে শনিবার মধ্যরাতে। রোববার প্রচারণা না থাকলেও প্রার্থী-সমর্থকরা ভোটের হিসাব-নিকাশ কষছেন। পাশাপাশি ভোটারদের প্রশ্ন, ভোট শান্তিপূর্ণ হবে তো?কে মেয়র হবেন, এর চেয়েও ভোট কেমন হবে সেই প্রশ্ন ভোটারদের জল্পনা-কল্পনায়। নগরের ভোটারের কাছে এ বিষয়টি এখন মুখ্য হয়ে উঠেছে। ভোটের দিনসহ আগে ও পরের আইন-শৃঙ্খলাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ ছড়াচ্ছে ভোটারদের মধ্যে।এরই মধ্যে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব এবং বিএনপি নেতা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাককে শনিবার রাত ৯টার দিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, জনগণের রায় ছিনিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সরকার ও প্রশাসন। পুরো পরিস্থিতিকে ভিন্ন দিকে মোড় দেয়ার চেষ্টায় সরকার সমর্থিতরা হামলার ঘটনা ঘটিয়ে আমার নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।আরিফুল অভিযোগ করে বলেন, আমার নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ থেকে বিষেশ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৩৯ জন পুলিশ সদস্যকে ঢাকা থেকে সিলেট নিয়ে আসা হয়েছে।এদিকে, শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে নগরে বহিরাগতদের চলাচলে নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা মানছেন না প্রার্থীরা। আচরণবিধি লঙ্ঘন করে শনিবার সংসদ সদস্য ইয়াহইয়াহ চৌধুরীকে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গেছে।এছাড়া ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে প্রার্থী ও ভোটারদের প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ পদ্ধতি।

বিএনপি বলছে, ইভিএমের মাধ্যমে ভোটে ডিজিটাল কারচুপি হবে। আর আওয়ামী লীগের দাবি, সময় বাঁচাতে ও দুর্ভোগ কমাতে সবগুলো কেন্দ্রেই ইভিএম ব্যবহার করা প্রয়োজন। তবে সিলেটে এবার মাত্র দুটি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে।

নগরের নবাব রোড এলাকার বাসিন্দা মঈন উদ্দিনের কাছে নির্বাচন কেমন হবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ভালোয় ভালোয় নির্বাচন শেষ হলেই রক্ষা। কে মেয়র হবেন এর চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে- সুষ্ঠুভাবে ভোট হলেই আমরা বাঁচি।

আগামীকাল রোববার (৩০ জুলাই) সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবার ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন ভোটার ১৩৪টি ভোট কেন্দ্রের ৯২৬টি ভোট কক্ষে তাদের ভোট দেবেন।