প্রস্তুত হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও

সময়ের ডাক: আর মাত্র কদিন পরেই সিলেট সিটি নির্বাচন। ৩০ জুলাই এই সিটি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রস্তুত হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের সাথে মিলে নিরাপত্তা ছকও চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সেই সাথে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের তালিকাও চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন অফিস।

এবার প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সিসিক নির্বাচন। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের মধ্যেও মেয়র প্রার্থী ও সাধারণ ভোটাররা একটি সুষ্ঠ-শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রতীক্ষার প্রহর গুণছেন। ২৮ জুলাই মধ্যরাতেই শেষ হবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। যতই সময় ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে নির্বাচনি উত্তাপ।

নির্বাচনে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য ইতিমধ্যে সব প্রস্তিতি সম্পূর্ণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচনি কার্যালয়ের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহা সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে জানিয়েছেন, নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংখ্যা কেমন হবে সেটা জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে যাতে সম্পন্ন হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সব ধরনের নিরাপত্তা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি আরো জানান, সিলেট মহানগরীতে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে ১৪ প্লাটুন বিজিবি। ১৩৪টি ভোট কেন্দ্রের প্রতিটিতে ২২ জন করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ৭ জন পুলিশ, ১২ জন আনসার সদস্য আগ্নেয়াস্ত্রসহ আনসার বাহিনীর একজন প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) ও একজন এপিসি এবং একজন ব্যাটলিয়ান আনসার সদস্য থাকবেন।

তবে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র সমূহে ২ জন করে অতিরিক্ত ব্যাটলিয়ান আনসার সদস্য অস্ত্র সহ থাকবেন বলেও জানিয়েছেন প্রলয় কুমার সাহা।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রতি কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ৭ জন পুলিশ সদস্যের মধ্যে একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই), একজন সহকারি উপ-পরিদর্শক এবং ৫ জন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োজিত থাকবেন।

প্রলয় কুমার সাহা আরো জানান, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্য ছাড়াও প্রতি ভোট কেন্দ্রে র‍্যাবের একটি করে টিম কাজ করবে। এছাড়াও মাঠে থাকবে মোবাইল ফোর্স এবং নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট।

সর্বসাকুল্যে সিসিক নির্বাচনে ১৩৪টি ভোট কেন্দ্রে ২৯৪৮ জন পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। ১৪ প্লাটুন বিজিবি, ৯ টি সাইকিং ফোর্স, ২৭টি র‍্যাবের টিমও কাজ করবে এই নির্বাচনে।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, সিসিক নির্বাচনে ১৩৪ টি ভোট কেন্দ্রে একজন করে প্রিজাইডিং অফিসার, ৯২৬ জন সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার এবং ১৮৫২ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। এই তালিকা ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করেছে কমিশন।

উল্লেখ্য, আগামী ৩০ জুলাই সকাল ৮টা থেকে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডের ১৩৪টি কেন্দ্রে এই ভোট গ্রহণ চলবে। যার মধ্যে ২টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন দিয়ে ভোট গ্রহণ করা হবে। সিসিক এলাকায় মোট ভোটার ৩ লক্ষ ২১ হাজার ৭৩২ জন।

এবারের নির্বাচনে ৭ জন মেয়র প্রার্থী, ১২৬ জন কাউন্সিলর প্রার্থী এবং ৬২ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. আজবাহার আলী শেখ বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে আমরা এখনো পর্যালোচনা করছি। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি নগরী জুড়েই থাকবে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যেই বিস্তারিত জানিয়ে দেওয়া হবে।

নির্বাচন অফিসের চাহিদা ছাড়াও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ আলাদাভাবে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।