প্রচ্ছদ > ধর্ম পাতা > দুধের শিশুর প্রস্রাব কাপড়ে লাগলে কী করবেন?

দুধের শিশুর প্রস্রাব কাপড়ে লাগলে কী করবেন?

ধর্ম পাতা

 

ধর্ম ডেস্ক : দুধের শিশুর প্রস্রাব কাপড়ে লাগলে কী করবেন?ছোট শিশুকে আদর-স্নেহ ও মায়া-মমতায় রয়েছে কল্যাণ। আর এ কারণেই ছোট্ট শিশুকে মানুষ আদর করে এবং কোলে তুলে নেয়। শিশুকে কোলে নেয়ার পর সে শিশু যদি কারো কাপড়ে প্রস্রাব করে দেয়; তবে সেক্ষেত্রে করণীয় কী? হাদিসে পাকে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ সমস্যার সুস্পষ্ট সমাধান দিয়েছেন।
এ ছোট্ট শিশু যদি মায়ের দুধ পান করা ব্যতিত শক্ত কোনো খাবার না খায় তবে ছেলেদের বেলায় প্রস্রাবের স্থানে পানি ছিটিয়ে দিলেই হবে। আর যদি মেয়ে শিশু হয় তবে তা ধুতে হবে। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত উম্মু কাইস বিনতে মিহসান রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার দুগ্ধপোষ্য শিশুকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গেলাম। সে (শিশু) তখনো শক্ত খাবার খাওয়া শুরু করেনি।
বাচ্চাটি তাঁর (প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোলে প্রস্রাব করে দেয়। তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পানি নিয়ে আসতে বললেন এবং তা প্রস্রাবের জায়গায় ছিটিয়ে দিলেন।’ (বুখারি, মুসলিম, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি)
আর দুগ্ধপোষ্য শিশু যদি কন্যা সন্তান হয়, তবে তার প্রস্রাব (যে কাপড়ে লাগবে) অবশ্যই তা ধুতে হবে। কেননা প্রস্রাব মূলতঃ অপবিত্র। উহা ধোয়া আবশ্যক। কিন্তু শিশু পুত্রের প্রস্রাব এর ব্যতিক্রম। কেননা সুন্নাতে নববিতেই এর প্রমাণ বিদ্যমান।

হাদিসে এসেছে-
– আবুস সামহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমাত করতাম। তিনি গোসল করার ইচ্ছা করলে আমাকে বলতেন, তুমি পিঠ ঘুরিয়ে দাঁড়াও। তখন আমি পিঠ ঘুরিয়ে দাঁড়িয়ে তাঁকে আড়াল করে রাখতাম।
একবার হাসান অথবা হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে আনা হলে তাদের একজন তার বুকে প্রস্রাব করে দিলেন। আমি তা ধুয়ে দিতে আসলে তিনি বললেন, ‘মেয়ে শিশুর প্রস্রাব ধোয়া আবশ্যক হয়। আর ছেলে শিশুর প্রস্রাবে পানি ছিটিয়ে দিলেই যথেষ্ট।’ (নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, বাইহাকি)
– হাদিসের অন্য বর্ণনায় এসেছে হজরত লুবাবাহ বিনতুল হারিস সূত্রে বর্ণনা করেন, এক দিন হোসাইন ইবনে আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোলে থাকাবস্থায় পেশাব করে দিলেন। আমি বললাম, আপনি অন্য একটি কাপড় পরে নিন এবং আপনার এই কাপড়টি আমাকে ধুতে দিন। তিনি বললেন, ‘মেয়ে শিশু প্রস্রাব করলে ধুতে হয়। আর ছেলে শিশু প্রস্রাব করলে তাতে পানি ছিটিয়ে দিলেই যথেষ্ট।’ (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ, মুসতাদরেকে হাকেম)
– হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত তিনি বলেন, মেয়েদের প্রস্রাব ধুতে হবে এবং ছেলেদের প্রস্রাবে পানি ছিটিয়ে দিলেই যথেষ্ট হবে- যতক্ষণ না তারা শক্ত খাদ্য গ্রহণ করে।’ (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ)

সর্বোপরি উল্লেখিত হাদিসগুলোর আলোকে ওলামায়ে কেরামগণের সিদ্ধান্ত হলো–শিশু সন্তান যদি ছেলে হয় এবং শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধই তার খাদ্য হয়, তবে তার প্রস্রাব হালকা নাপাক। এটাকে পবিত্র করার জন্য পানির ছিটাই যথেষ্ট। অর্থাৎ হাতে পানি নিয়ে কাপড়ের ওপর এমনভাবে ছিটানো যাতে তা সম্পূর্ণ প্রস্রাবের স্থানকে শামিল করে। তবে তা ঘষতে হবে না এবং তাতে এত বেশি পরিমাণ পানিও ঢালতে হবে না যে, চাপ প্রয়োগ করে কাপড় থেকে পানি বের করতে হয়।
– আর শিশু সন্তান যদি কন্যা হয় তবে, যে কাপড়ের মধ্যে প্রস্রাব করবে, তা ধুয়ে নিতে হবে। হাদিসের ঘোষণাও এমন।
মনে রাখতে হবে

ছেলে শিশু সন্তান যদি শক্ত খাবার খেতে শুরু করে, তবে অবশ্যই তার প্রস্রাব করা কাপড় ধুয়ে নিতে হবে। নতুবা কাপড় পবিত্র হবে না।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।