বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউন্সিলর হচ্ছেন আজাদ 

সময়ের ডাক : সিলেটের ইতিহাসে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আজাদুর রহমান আজাদ।
রবিবার রাতে তাঁর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী একমাত্র প্রার্থী মিঠু তালুকদার সমর্থন জানিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলে এমন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে।
মিঠু সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলে নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা আনুষ্ঠানিক ভাবে আজাদকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউন্সিলর হিসেবে ঘোষণা দিতে আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে মাত্র।
জানা যায়- সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ এবং জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রনজিত সরকার দুজনই বন্ধু হিসেবে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত। অনেক দিন ধরেই তাদের এক সাথে পথচলা। দুজনই লেখাপড়ার করেছেন সিলেট সরকারী কলেজে। লেখাপড়ার পাশাপাশি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকাকালীন সময়ে দাপটে নেতা ছিলেন তারা। ছাত্রলীগের হয়ে প্রতিপক্ষকে ঠেকিয়েছেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। একই ছিল যেন তাদের ঠিকানা।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার এক বছর পর থেকেই বাড়তে থাকে তাদের দূরত্ব। দুজন হয়ে যান দুই মেরুর নেতা। টিলাগড় ভিত্তিক আওয়ামী রাজনীতির ধারক-বাহক হয়ে যান দুজন। পরপর তিনবার সিলেট সিটি করপোরেশনের ২০ নং ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে যান আজাদ। কিন্তু এবারের অনুষ্ঠিতব্য সিসিক নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রনজিত সরকারের ভাগ্নে মিঠু তালুকদার। মিঠু ইতিমধ্যে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। ফলে মামু-ভাগ্নের মধ্যে নির্বাচন হতে যাচ্ছিল।
একপর্যায়ে আজাদ-রনজিতের দূরত্ব কমিয়ে আনতে পাশে এসে দাঁড়ান যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। তিনি আজাদ-রনজিতের দীর্ঘ দিনের দূরত্ব ভুলে আবারো এক করে দিয়েছেন। ফলে মামার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে নির্বাচন করতে নারাজ ভাগ্নে মিঠু তালুকদার। তিনি আগামীকাল সোমবার মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে যাচ্ছেন।
ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সিলেটে প্রথম ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন ২০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ।
এদিকে- ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও জনসাধারণকে নিয়ে জরুরী বৈঠকে বসেন মিঠু তালুকদার। তিনি সকলের উপস্থিতি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেন মামা আজাদকে সমর্থন জানিয়েছে।