আব্দুর রকিবের নেতৃত্বে নগরভবনে হামলা চালানো হয়েছে: আরিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট নগরীর বন্দরবাজারে সুরমা পয়েন্টে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে হকারদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রেসব্রিফিং করেছেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।সোমবার বিকাল ৫ টায় সিলেট নগর ভবনে এ প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

মেয়র আরিফ বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারীরা ফুটপাতে না বসতে হকারদের অনুরোধ জানিয়েছিল। তাদের অনুরোধ প্রত্যাখান করে হকার নেতা আব্দুর রকিবের নেতৃত্বে একদল হকার সংঘবদ্ধ হয়ে নগর ভবনে হামলা চালায়। এসময় তারা নগর ভবনে ঢুকে কর্পোরেশনের তিন কর্মীকে মারধোর করেছে। তারা আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ফুটপাত দখল করে রেখেছে। হকাররা নগরবাসীকে জিম্মি করে রেখেছে। তাদের কারণে ফুটপাতে চলাফেরা দায় হয়ে পড়েছে। নগরীর যানজট কোনভাবেই কমানো যাচ্ছেনা। এমন অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। নগরবাসীর স্বার্থে আমরা আইনগত পদক্ষেপ নেবো।’

মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী প্রেসব্রিফিংয়ে বলেন, বন্দরবাজার এলাকায় অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছিল হকাররা। এর আগে তাদের উচ্ছেদের ব্যাপারে আদালত থেকে সরাসরি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা মতে সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন বারবার হকারদের উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু হকাররা কারোর তোয়াক্কা না করে ফুটপাতে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল। সিটি কর্পোরেশন থেকে একদিকে উচ্ছেদ করা হলে অন্যদিকে আবার তারা দখল করে ফের ব্যবসা বসিয়েছে। এমন অবস্থায় সোমবার বিকেলে সিটি কর্পোরেশনের সামনে বসা হকারদের সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারীরা। হকাররা এমন অনুরোধ উপেক্ষা করে হকার্স লীগ নেতা আব্দুর রকিবের নেতৃত্বে হকারদের একটি দল নগরভবনে হামলা চালায়। এসময় আমাদের নগরভবনের তিন কর্মচারীকে তারা মারধোর করেছে। আহতরা হয়েছেন ইউসুফ আলী, আনসার আলী, সুমন আহমদ।

মেয়র বলেন, একপর্যায়ে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিরোধের মুখে হকাররা নগরভবন থেকে বের হতে বাধ্য হয়। এমন অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। তারা নগরভবনে হামলার দুঃসাহস কিভাবে পেল? কারা তাদেরকে সাহস যোগাচ্ছেন এদেরকে খুঁজে বের করতে হবে। হকার্স লীগ নেতা আব্দুর রকিব ফুটপাত দখলের মামলায় জেল থেকে জামিনে রয়েছে। তারপরও তার দৌরাত্ম্য থেমে নেই।

সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, এ ঘটনার বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন থেকে আইনী পদক্ষেপে যাওয়া হবে। প্রয়োজনে মামলা করা হবে। এর আগেও হকারদের উচ্ছেদের ব্যাপারে সিলেটের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ জেলা পরিষদের সভা করেছেন। সর্বসম্মতিক্রমে তাদের উচ্ছেদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এটি এখন নগরবাসীর দাবি। আর এই দাবি রক্ষার্থে সিটি কর্পোরেশন থেকে যা যা করার আমরা তা করবো।

প্রেসব্রিফিংকালে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তাবৃন্দ ও আহত তিন কর্মচারীও উপস্থিত ছিলেন।