প্রচ্ছদ > জাতীয় > ‘কঠোর’ আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি

‘কঠোর’ আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ

সময়ের ডাক ডেস্ক :: দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। আন্দোলন ছাড়া চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায় সম্ভব নয় বলে মনে করছেন দলটির হাইকমান্ড। এরই মধ্যে প্রকাশ্যে বক্তব্যে-বিবৃতিতেও আন্দোলনের বিকল্প নেই বলতে শুরু করেছেন দলের সিনিয়র নেতারা। নানা হিসাব-নিকাশ কষে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে রাজপথে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে ঈদুল ফিতরের আগেই সারাদেশে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে তারা। পাশাপাশি নিজেদের দাবির প্রতি জনগণকে সম্পৃক্ত এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়েও জোরালো তৎপরতা চালাবেন নেতারা।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিএনপিসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নতুন ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঈদের আগেই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সময়ের মধ্যেই কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং মহিলা দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে দলটি।

হাইকমান্ডের নির্দেশে গতকাল শনিবারও খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতের প্রতিবাদে ছাত্রদল ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। আন্দোলনকে মাথায় রেখে শুক্রবার ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের সমন্বয়ে যুবদল ৩১ জেলায় নতুন কমিটি গঠন করেছে। এখন থেকে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। ঈদের পর থেকে ধাপে ধাপে কর্মসূচির মাধ্যমে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের দিকে বড় ধরনের আন্দোলনে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দাবি-দাওয়া আদায়ে তারা নিয়মতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচিতে বিশ্বাস করেন। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে দলের চেয়ারপারসন মুক্তি পাবেন বলেও তারা আশা করেন। তবে বিচার বিভাগের ওপর সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করা চলমান প্রক্রিয়া। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত এবং নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ে সরকারকে বাধ্য করতে প্রয়োজনে রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামবেন তারা।

সূত্র জানায়, আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের কৌশল নিয়ে এগোচ্ছিল বিএনপি। আগাম হঠকারী কোনো কর্মসূচি দিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মামলা-হামলার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চান না দলের হাইকমান্ড। কারাবন্দি হওয়ার আগেও হঠকারী নয়, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনিসহ দলের সিনিয়র নেতারা আশা করেছিলেন, এক-দুই সপ্তাহের মধ্যেই মামলায় জামিন পাবেন। কিন্তু দীর্ঘ চার মাসেও জামিন না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন সবাই। সম্প্রতি সাক্ষাৎ করতে গেলে নিজের আইনজীবীদের খালেদা জিয়া তাকে দ্রুত মুক্ত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার অনুরোধ করেছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রয়োজনে বড় আন্দোলনের জন্য দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সূত্রমতে, দলের চেয়ারপারসনের জামিন বিলম্ব হওয়া এবং তার নির্দেশনায় কিছুটা নড়েচড়ে বসছে বিএনপি। একই সঙ্গে নির্বাচনকালীন সরকারের দাবির ব্যাপারে সরকারের অনমনীয় কঠোর মনোভাব দেখে হতাশ দলটির হাইকমান্ড। এ পরিস্থিতিতে দাবি আদায়ে আন্দোলনের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন দলটির হাইকমান্ড। আন্দোলন ছাড়া দাবি-দাওয়া আদায় হবে না- ধরে নিয়ে আন্দোলনের জন্য তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়ে এগোচ্ছেন তারা। এত দিন শুধু দলের ‘কট্টরপন্থি’ অংশের নেতারা কঠোর আন্দোলনের কথা বললেও এখন ‘উদারপন্থি’ অংশের নেতারাও একমত পোষণ করছেন।

জানা গেছে, সারাদেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিমের সফরকালে তৃণমূল নেতারাও দাবি আদায়ে কঠোর আন্দোলনে নামার পরামর্শ দিয়েছেন।

দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপকালে জানান, বিএনপি কখন থেকে রাজপথে নামবে- তা এখনও চূড়ান্ত করেনি। তাদের আন্দোলনে নামতে হবে- এটি তারা বুঝে গেছেন। এখন সে লক্ষ্যে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঈদের পর ধাপে ধাপে ছোট কর্মসূচি দিয়ে বড় কর্মসূচির দিকে যাবে। অক্টোবরের মধ্যে খালেদা জিয়ার মুক্তি না হলে এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে নির্দলীয় সরকারের দাবির ব্যাপারে সরকার আলাপ-আলোচনা শুরু না করলেও ‘চূড়ান্ত আন্দোলনে’ যাওয়া ছাড়া বিকল্প থাকবে না।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বিএনপি আইনের শাসন ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দল। তারা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মুক্ত করতে চাইছেন। তবে সরকারের গতিবিধি দেখে মনে হচ্ছে, রাজপথে আন্দোলন ছাড়া তাকে মুক্ত করা যাবে না। তারা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, রাজপথে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেই নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবেন- ইনশাআল্লাহ।

জানা গেছে, আন্দোলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাজধানীতে বিএনপিকে সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আংশিক কমিটি গঠিত হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনও হয়নি। ঈদের আগেই নগরীর পূর্ণাঙ্গ কমিটিসহ সব বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কাজ সম্পন্ন করেছেন নগর নেতারা।

সূত্র জানায়, আগামী দিনে বিএনপির আন্দোলন কর্মসূচিতে দল সমর্থিত পেশাজীবীদের রাজপথে নামানোর উদ্যোগ নিয়েছে। পেশাজীবী নেতারা সারাদেশ সফর করবেন। স্ব-স্ব অবস্থান থেকে বিএনপির দাবির প্রতি জনগণকে সম্পৃক্ত করতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করবেন তারাও। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ে জোর তৎপরতা চালাবেন তারা। এ লক্ষ্যে দলের আন্তর্জাতিক উইংয়ের নেতাদের দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আন্দোলন ছাড়া দলের চেয়ারপারসনকে মুক্ত করা যাবে না। জনগণকে সম্পৃক্ত করে আন্দোলনের কর্মসূচি পালন করবেন তারা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্দোলন শুরুর সময়সীমা বলা যাবে না। ধারাবাহিকভাবে ধাপে ধাপে কঠোর আন্দোলনের দিকে যাবেন তারা। এখন সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করাই তাদের লক্ষ্য।