নিজের  শয়নকক্ষে বিয়ের ২ দিনের মাথায় খুন হলেন ছাত্রলীগ নেতা

সময়ের ডাক ডেস্ক: কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় নিজ বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল আলমের (২৭) গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পাওয়া গেছে শটগানের গুলি।মঙ্গলবার (৩০ মে) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার হাটশ-হরিপুর ইউনিয়নের হরিপুর ফারাজীপাড়া থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।জানা গেছে, নাজমুল জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। ঘটনার মাত্র দুদিন আগে তিনি বিয়ে করেন। কী কারণে, কারা তাকে হত্যা করতে পারে, তা বোঝা যাচ্ছে না। নাজমুলের নববিবাহিত স্ত্রী ঊর্মি খাতুন ও বাবা আলতাব হোসেনকে ঘটনার পরপর পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এতে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্ত্রীর কাছ থেকেও কেউ কোনো তথ্য জানতে পারেনি।পুলিশ, নাজমুলের পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নাজমুল কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে ২০১৫ সালে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাস করেন। কোনো চাকরি বা ব্যবসা করতেন না। নাজমুল জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে নাজমুল ছিলেন সবার বড়। নাজমুলের সবচেয়ে ছোট ভাই কয়েক বছর আগে অসুস্থ হয়ে নয় বছর বয়সে মারা যায়। তিন বোনের মধ্যে একজন বিয়ে করেছেন। অন্য দুই বোন পড়ালেখা করছেন। বাবা-মা ও বোনদের নিয়ে একই বাড়িতে থাকতেন নাজমুল। গত রোববার পরিবারের সম্মতিতে শহরের কানাবিল এলাকার ঊর্মি খাতুনকে বিয়ে করেন তিনি।

নাজমুলের বোন ইসলামিয়া কলেজের ছাত্রী সালমা খাতুন জানান, বাবা-মায়ের সঙ্গে একই কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন তিনি। মধ্যরাতে প্রচণ্ড শব্দ পান। পরে কক্ষ থেকে বের হয়ে দেখেন, ভাইয়ের দরজা খোলা। মেঝেতে ভাইয়ের লাশ পড়ে আছে। আর ভাবি কাঁদছেন।

নাজমুলের মা নাজমা খাতুন বলেন, মঙ্গলবার ছেলে বউমাকে নিয়ে শহর ও গ্রামে ঘুরে বেড়িয়েছেন। রাত ১০টায় তারা বাড়ি ফেরে। খাওয়া শেষে দুজনই শোয়ার ঘরে যায়। রাত তিনটার কিছু আগে হঠাৎ গুলির শব্দ পান পাই। ছেলের ঘরে গিয়ে দেখতে পাই খাটের পাশে মেঝেতে ছেলে পড়ে আছে। ঘর রক্তে ভেসে যাচ্ছে।

মাথার ডান পাশে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে নাজমুলকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয় বলে জানান হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেদী হাসান জনি জানান।

কুষ্টিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতিকুর রহমান জানান, রাত সাড়ে তিনটার দিকে নাজমুলের শয়নকক্ষ থেকে লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নাজমুলের মাথার ডান পাশে একটা গুলির চিহ্ন রয়েছে। নাজমুলের স্ত্রীর ডান হাতের একটা আঙুলে কাটার দাগ। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন জানান, নাজমুলকে বুধবার রাত আড়াইটার দিকে নিজ ঘরে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডে কে বা কারা জড়িত তা এখনই বলা যাচ্ছে না। পূর্ব শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।