দেশাত্মচেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান আরিফের

সময়ের ডাক : সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত না আমাদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত হবে, নগরীকে আমাদের নিজ শহর বলে মনে করতে পারবো ততক্ষণ পর্যন্ত এই শহরকে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো না।’

বুধবার (৯ মে) সকালে নগরীর একটি হোটেলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক ইন্সটিটিউট অফ গভর্ন্যান্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) এবং সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত নগরীর চিকিৎসা-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন।’

সিটি মেয়র আরো বলেন, ‘সিলেটে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের মধ্যে সহমর্মিতা আছে, আমাদের মধ্যে কাজের ক্ষেত্রে কোন সমস্যা নেই কিন্তু প্রশাসনের কাছ থেকে আমরা আরো বেশি সক্রিয়তা ও সহযোগিতা চাই। তিনি সকলকে প্রতিহিংসা ও সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে দেশাত্মচেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান।’

সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ জে এম নুরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় আরো বক্তব্য রাখেন, সিটিজ এলায়েন্স এর এশিয় আঞ্চলিক উপদেষ্টা অজয় সুরী, বিআইজিডির গবেষণা ফেলো ড.শাহনেওয়াজ হোসেন, সিলেট মহিলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর রেজাউল করিম, স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক, ড. নারায়ণ চন্দ্র সাহা, সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলী রুহুল আলম, জয়দেব বিশ্বাস প্রমুখ।

কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনে বিআইজিডির গবেষক এসএম আরাফাত জুবায়ের চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি শিক্ষার বর্তমান অবস্থা সহ এর চাহিদা ও যোগান নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘নগরীর সরকারি বেসরকারি ৮৮টি হাসপাতাল-ক্লিনিকে দৈনিক ৯ হাজার কেজির বেশি বর্জ্য তৈরি হয়। কিন্তু এই বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন, পৃথকীকরণ, নির্ধারিত স্থানে ডাম্পিং এর ক্ষেত্রে বিজ্ঞানসম্মত যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় না।’

এক্ষেত্রে তিনি চিকিৎসা বর্জ্যের প্রকার অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন ডাস্টবিন ব্যবহার, ব্যবস্থাপনার জন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ দান, পরিবহনের জন্য কাভার্ড ভ্যান এবং কিছু কিছু বর্জ্য যথাযথভাবে নি:শেষ করার উপর জোর দেন।

সিলেটের কারিগরি শিক্ষার চলমান অবস্থা এবং এর সম্ভাবনার সম্পর্কে এস এম আরাফাত বিস্তারিত আলোচনা করেন।

দ্বিতীয় অধিবেশনে প্যানেল আলোচনায় বক্তারা স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়ানোর জন্য, বাসযোগ্য নগরীতে সুন্দর জীবন নিশ্চিত করার জন্য নগরীতে ক্রিয়াশীল সকল সরকারি-বেসরকারি সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়, বিদ্যমান আইন ও বিধি অনুসরণ, সকল প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্যানেল আলোচনায় আরো বক্তব্য রাখেন পরিবেশ আইনবিদ সমিতির বিভাগীয় সমন্বয়কারী এডভোকেট শাহ শাহেদা আক্তার, সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, আইডিয়া সিলেটের তামান্না আহমেদ, সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, পার্ক ভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. তন্ময় ভট্টাচার্য, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম প্রমুখ।

ড. শাহনেওয়াজ হোসেন প্রকল্প বাস্তবায়নে সকলের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ‘যে কোন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নগরবাসীই মূল শক্তি। তাই বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ অন্য সকল কাজে নগরবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে।’

করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী নুরুল হক কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সকলের মতামত ও পরামর্শকে সিটি করপোরেশন বিবেচনা করবেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি স্বাস্থ্যসম্মত, উন্নত, বেকারত্বমুক্ত, বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

উন্নত চিকিৎসা-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নগরীর ন্যায্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উন্নয়ন এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য। ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ইউকেএইডের আর্থিক সহায়তায় ব্রাসেলস্-ভিত্তিক সিটিজ্ এ্যালায়েন্স এর কারিগরি সহযোগিতায় নগর দারিদ্র্য হ্রাস এবং নাগরিকদের ন্যায্য সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।