দক্ষিণ সুরমায় ডাবল মার্ডার অধরা মুল আসামীরা, উদ্ধার হয়নি আগ্নেয়াস্ত্র

সময়ের ডাক::গত ৬ মার্চ সিলেটের দক্ষিণ সুরমা বরইকান্দি গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় বাবুল মিয়া (২৮) ও মাসুক মিয়া (৫০) নিহতের ঘটনায় মামলা হলেও এখনো কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এছাড়া হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রও এখনো উদ্ধার হয়নি। এসব তথ্য ঐদিনের ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে মঙ্গলবার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বরইকান্দি আবাসিক এলাকার ৩নং রোডের বাসিন্দা মৃত শফিক মিয়ার ছেলে সেবুল মিয়া। নিহতদের মধ্যে বাবুল মিয়া (২৮) তার আপন ছোট ভাই এবং মাসুক মিয়া (৫০) খালাতো ভাই। লিখিত বক্তব্যে সেবুল মিয়া বলেন- গত ৬ মার্চ দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি গ্রামে আলফু ও তার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন আমার আপন ভাই বাবুল মিয়া (২৮) ও খালাতো ভাই মাসুক মিয়া (৫০)। ঐ ঘটনায় আমি নিজে বাদী হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলেও এখন পর্যন্ত এ জোড়া খুনের মামলার প্রধান আসামী খুনী আলফুকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। উপরন্তু, ঐ হত্যাকান্ড প্রসঙ্গে গত ২৮ জুন এক সংবাদ সম্মেলন করে খুনী আলফুর স্ত্রী কিছু অসত্য ও ভিত্তিহীন বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন, যা আমিসহ পুরো এলাকার মানুষকে মর্র্মাহত ও বিক্ষুব্ধ করেছে।
ঘটনার দিনের কথা উল্লেখ করে সেবুল মিয়া বলেন- ঘটনার সূত্রপাত হয় এর আগের দিন অর্থাৎ ৫ মার্চ সন্ধ্যায়। ঐ দিন সন্ধ্যা ৭টায় বরইকান্দি সুমন অটো রাইছ মিলের সামনে আমার মামাতো ভাই হানিফুল ইসলামের বাইসাইকেলে খুনী আলফু মিয়ার ছেলে সাঈদ মোটর সাইকেল দিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে। এ সময় হানিফুল সাঈদের অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করলে সে হানিফুলকে বেধড়ক মারপিট করে এবং দেখে নেয়ার হুমকী দিয়ে স্থান ত্যাগ করে। এসময় হানিফুল আহত হয়ে বাড়িতে চলে যায়। রাত ৯টার দিকে আমার মামা, বরইকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গৌছ মিয়া বাকবিতন্ডার বিষয়টি জানতে পেরে বিষয়টি এলাকার মুরুব্বীয়ান ও দক্ষিণ সুরমা থানার ওসিকে অবগত করেন। এলাকার মুরুব্বী এমএ হান্নান ও আব্দুল গণিসহ অন্য মুরুব্বীয়ানরা বিষয়টির সুষ্ঠু বিচার করে দেয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু, তারা চলে যাবার পরপরই আলফুর ছেলে সাঈদ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়ির সামনে অবস্থান নেয়। সাঈদের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী রাতের অন্ধকারে হামলার উদ্দেশ্যে বরইকান্দি ১০নং রোড থেকে ৩নং রোডের দিকে আসে। কিন্তু, আগে থেকেই সেখানে পুলিশ থাকায় তাদের ধাওয়া করে তাড়িয়ে দেয়।
এ উত্তেজনার খবর পেয়ে রাতেই দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি খায়রুল ফজলসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন, মোল্লারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মকন মিয়া, প্রবীন মুরুব্বী আব্দুল হান্নান, সামছুদ্দিন, আব্দুস সাত্তার, মানিক মিয়াসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গও ঘটনাস্থলে আসেন। ৫ মার্চ দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ওসিসহ এলাকার মুরুব্বীরা গৌছ মিয়ার বাড়িতে আসেন এবং উভয় পক্ষকে ধৈর্য্য ও সহনশীলতার সাথে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহবান জানান। তারা ৬ মার্চ সকালে সালিশ বৈঠকে বসে বিষয়টি সুরাহা করে দেয়ার আশ্বাস দেন। সে অনুযায়ী আমরা নিজ নিজ বাড়িতে চলে যাই।
কিন্তু, সকাল ১০টার দিকে আকষ্মিকভাবে সন্ত্রাসী খুনী আলফুর নেতৃত্বে তার নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনীর কয়েক শ‘ লোক এবং তাদের জ্ঞাতিগোষ্টি দুই-আড়াই হাজার মানুষ আমাদের উপর হামলা চালায়। আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত এই সন্ত্রাসী বাহিনী মুর্হূমুহূ গুলি ছুড়ে। এ সময় খুনী আলফু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর গুলিতে নির্মমভাবে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান আমার ভাই বাবুল মিয়া ও খালাতো ভাই মাসুক মিয়া। আমিসহ আমাদের পক্ষের অর্ধ শতাধিক লোক সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হই।
অথচ, প্রকৃত সত্যকে পাশ কাটিয়ে গত ২৮ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলন করে সন্ত্রাসী খুনী আলফুর স্ত্রী সুলতানা আক্তার ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে নিজের খুনী স্বামী আলফু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে রক্ষার করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন।
ঐ সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা আক্তার তার স্বামী খুনী আলফুকে ‘স্বনামধন্য চেয়ারম্যান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অথচ, খুনী আলফুর বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জের আলোচিত যুবলীগ নেতা আব্দুল আলী হত্যা মামলাসহ আরো দুটি হত্যা মামলা, কোম্পানীগঞ্জ পাথর কোয়ারীর চাঁদাবাজি, জলমহাল জবরদখল, ডাবল মার্ডারসহ ১০/১২টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় সে বহুবার জেলও খেটেছে।
ঐ সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ নেতা গৌছ মিয়ার বাড়িতে বিচার নিয়ে গেলে গৌছ মিয়ার ছেলে-ভাতিজারা মিলে তার ছেলেকে মারধর করে, যা আদৌ সত্য নয়। বরং, এলাকার সালিশানদের অবজ্ঞা করে রাতেই খুনী আলফুর ছেলে সাঈদ আমাদের বাড়িঘরে হামলার চেষ্টা চালায়। পরদিন সকালে আমাদের সম্পুর্ণ অপ্রস্তুত ও ঘুমন্ত অবস্থার সুযোগে খুনী আলফু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের উপর আক্রমন করে বন্দুকের গুলিতে নির্মমভাবে দু’জনকে হত্যা করে চলে যায়।
ঐ সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছে, আমাদের পক্ষের লোকজন বরইকান্দি ১০ নং রোডে বাড়ি ঘরে হামলা ও দোকানপাট ভাংচুর করেছেন, যা সম্পুর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। অথচ, ঐ সংবাদ সম্মেলনে খুনী আলফু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর তান্ডবের বিষয়টিকে পাশ কাটিয়ে কৌশলে এর দায়ভার এলাকার নিরীহ জনসাধারনের উপর চাপানোর অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
কৌশলে সন্ত্রাসীদের গডফাদার খুনী আলফুকে রক্ষার উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, আলফু সেদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলনা। অথচ, পেশাদার খুনী আলফুর নেতৃত্বেই যে সেদিন হামলার ঘটনা ঘটেছিল, তার ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র আমাদের কাছে রক্ষিত আছে। ঘটনার কয়েক দিন পর আলফুর বাড়ি সংলগ্ন পুকুর থেকে পুলিশ দা, সুলফি, ডেগারসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করে। অথচ, সংবাদ সম্মেলনে ঐ ঘটনাকেও অস্বীকার করেছেন সন্ত্রাসী খুনী আলফুর স্ত্রী সুলতানা আক্তার।
আমার ভাই বাবুল মিয়া ও খালাতো ভাই মাসুক মিয়ার নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনায় আমি নিজে বাদী হয়ে গত ৮ মার্চ ২০১৮ ইং তারিখে দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করি। ঐ মামলায় খুনী আলফুকে প্রধান আসামী করে ১১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৭/৮ শ’ জনকে আসামী করা হয়। ঐ হত্যা মামলার একাধিক এজাহারনামীয় আসামীকে জনতার সহায়তায় পুলিশ গ্রেফতার করে। কিন্তু, এখন পর্যন্ত মূল গডফাদার খুনী আলফু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি, সে প্রকাশ্য দিবালোকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা সন্ত্রাসীদের গডফাদার খুনী আলফু, তার সহযোগী তার ছেলে সাঈদ, মুহিত, কাজী জাফর, কাজি আফসর, আব্দুল আলিমসহ সকল এজাহারনামীয় আসামীকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবী জানাচ্ছি। আমাদের উপর নির্মম হামলার ঘটনায় দু’জন নিহত হওয়া সত্বেও সন্ত্রাসী খুনী আলফুর মা হায়াতুন নেছা বাদী হয়ে হামলার অভিযোগে আমাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে সেবুর মিয়া, অবিলম্বে তদন্ত সাপেক্ষে ঐ মিথ্যা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার জন্য পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি জোর দাবী জানান এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ২০/২৫ টি বন্দুকসহ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের জন্যও প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- দাইম উল্লাহ মিয়া, উমর আলী, ফখরুল ইসলাম, কুতুব মিয়া, শামীম আহমদ, আব্দুস সালাম, শাহেদ আহমদ শান্ত, ফজল মিয়া, আব্দুর রহিম, তাবের আহমদ প্রমুখ।