সিসিকের বকেয়া পানির বিল পরিশোধে মেয়রের হুঁশিয়ারি

সময়ের ডাক : সিলেট নগরে গ্রাহকদের কাছে পানির বিল বকেয়া রয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা। বার বার নোটিশ প্রদান সত্বেও বিল পরিশোধ করছেন না আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতের খেলাপি গ্রাহকরা। এছাড়া অবৈধভাবে সংযোগ নিয়েও অনেকে পানি তুলছেন। একই সাথে মেইন লাইন থেকে আলাদা মোটর বসিয়েও পানি তুলছেন অনেকে।বিল পরিশোধ করার জন্য সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

৫ মে, শনিবার সন্ধ্যায় নগর ভবনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি দেন সিসিক মেয়র।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) এলাকায় আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সরকারি প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার বৈধ সংযোগ রয়েছে। এসব সংযোগের অধিকাংশ গ্রাহক ৭-৯ বছর ধরে বিল পরিশোধ করছেন না। ফলে সিসিকের পানির বকেয়া বিল দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৮৬ লাখ ২৭১ টাকা। আর অবৈধ সংযোগের ফলে নগরীতে দেখা দিচ্ছে পানির সংকট।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী অবৈধ সংযোগ বৈধ ও বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য গ্রাহকদের সাত দিনের সময় বেঁধে দেন। তিন দিনের মধ্যে অবৈধ মোটর সরানোর জন্য অনুরোধ করেন তিনি। আবাসিক গ্রাহকরা বকেয়া বিল একসঙ্গে না পারলে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগও দেন মেয়র। এ সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ করলে আবাসিক গ্রাহকরা ৩০% ছাড় পাবেন। অন্যথায় অভিযান চালিয়ে জরিমানাসহ মালিকদের শাস্তি প্রদানের কঠোর হুঁশিয়ারি দেন মেয়র।

আরিফুল হক চৌধুরী জানান, এর আগে শনিবার সকালে পানির সমস্যার কারণ খুঁজতে গিয়ে তিনি দেখেন নগরীর পানির সংযোগের বেশিরভাগই অবৈধ। অত্যন্ত দুঃখজনক হলো, ১০-১২টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করলে মাত্র একটি বৈধ কাগজপত্র দেখাতে সক্ষম হয়। বাকিরা কোনো কিছুই দেখাতে পারেনি। তাদের মোটর জব্দ করা হয়েছে। তারা যদি রবিবারের মধ্যে কাগজপত্র দেখাতে না পারে তাদের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সম্পর্কে মেয়র আরিফ বলেন, ‘দেশের অন্যান্য শহরের তুলনায় মাত্র দুইশ’ টাকা পানির বিল সবচেয়ে কম। একটি অসাধু চক্রের ষড়যন্ত্রের কারণে সামান্য বিলটিও পরিশোধ করছেন না অধিকাংশরা। খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারলাম, বিল পরিশোধ না করতেই রাতের আঁধারে বাইরের লোক দিয়ে রাস্তা কেটে কতিপয় অসাধু লোকজন এসব সংযোগ নিচ্ছেন। বিল তো দিচ্ছেন-ই না, বরং যার একটি বৈধ সংযোগ আছে, সে দুটি অবৈধ সংযোগ নিয়ে রাখছে। এসব ব্যাপারে নগরবাসী সচেতন না হলে পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।’

মেয়র আরও বলেন, ‘নগরবাসী হোল্ডিং ট্যাক্স ও পানির বিল নিয়মিত পরিশোধ করলে আমরা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারব। পানির সমস্যা সমাধানে সিসিক আরেকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এখন থেকে সিসিকের তালিকাভুক্ত লোক ছাড়া পানির সংযোগ নেওয়া যাবে না।’

নিউজটি শেয়ার করুন