সোবহানের মৃত্যু অপমৃত্যু নয় পরিকল্পিত হত্যাকান্ড

সময়ের ডাক:আমার সন্তানকে তার শশুরবাড়ীর লোকজন ও প্রেমিক জাবেদ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এই হত্যা। হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে প্রশাসনসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়ার সুরুজ মিয়ার স্ত্রী হাওয়ারুন বেগম। সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ছেলে হত্যার অভিযোগ করেন হাওয়ারুন বেগম।হাওয়ারুন বেগম এর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাট করেন তার ছেলে মো. শাহাবুদ্দিন। লিখিত বক্তেব্যে বলা হয়,  ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ে এর মধ্যে ২য় ছেলে সোবহান মিয়া (৩০)। সোবহান মিয়াকে গত ২৭ এপ্রিল রাতে পরিকল্পিতভাবে তার স্ত্রী ও স্ত্রীর প্রেমিক জাবেদ এবং শশুড়বাড়ীর লোকজন। স্ত্রীর প্রেমিক জাবেদ এবং শশুড়বাড়ীর লোকজন হত্যা করার জন্য পরিকল্পিতভাবে নিরাপদ স্থান হিসেবে তার জেটালী ডলীর মিরাপাড়াস্থ ভাড়া বাসা। সেখানে গলায় ফাঁস লাগিয়ে রাখা হয় সোবহান মিয়াকে।সোবহান ৪/৫ বছর আগে বিশ্বনাথ উপজেলার চরচন্ডী গ্রামের কামাল মিয়ার মেয়ে ফাহিমার সাথে বিয়ে দেই। কামাল মিয়া তখন স্বপরিবারে সিলেট নগরীর মিরাপাড়া এলাকায় ভাড়াটিয়া থাকতেন। এক পর্যায়ে তার শশুর-শাশুড়ী মিরাপাড়া এলাকা ছেড়ে তাদের নিজ গ্রামে বিশ্বনাথে চলে যান। কিন্তু তাদের অন্যান্য ছেলে মেয়েরা মিরাপাড়া এলাকায় আজও বসবাস করছে। আমার ছেলের আড়াই বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সোবহান বিয়ের পর থেকে স্ত্রী ফাহিমাকে নিয়ে শশুড়বাড়ীর লোকজনের পাশাপাশি মিরাপাড়া এলাকায় একই কলোনীতে বসবাস করতো। সেই সুবাদে তার শশুরবাড়ীর আত্মীয় স্ত্রী ফাহিমার প্রেমিক জাবেদ নামের একটি ছেলে সোবহানের ঘরে প্রায়ই আসা যাওয়া করতো। অশৃঙ্খল জাবেদের চলা ফেরা তখন সোবহানের সন্দেহ হয়। প্রেমিক জাবেদের সাথে খোলামেলা অবস্থায় সোবহানের স্ত্রী ফাহিমাকে দেখার পর থেকে তাদের সংসারে অশান্তি বিরাজ করে। তখন এইসব বিষয় সোবহান তার জেটালী ডলীসহ তার শশুরবাড়ীর লোকজনকে বিষয়টি একাধীকবার অবগত করে জাবেদ যাতে তার বাসায় না আসে এবং তার স্ত্রীর সাথে না মিশে। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-ঝাটি হয়। সোবহান স্ত্রী ও সন্তানকে কাছে না পাওয়ার কারনে সে এক পর্যায়ে নেশা গ্রস্থ হয়ে পরে। সোবহানকে সুস্থ করার লক্ষ্যে তার স্ত্রী সন্তানকে তার হাতে ফেরত দিতে আমি মা হিসেবে আমার ছেলেকে নেশা গ্রস্থ থেকে ফিরিয়ে আনতে সু-চিকিৎসায় ছয় (৬) মাসের জন্য সিলেট “বাধন” নামক চিকিৎসা কেন্দ্রে গত ভর্তি করি। সে সুস্থ হয়ে ০৩ মার্চ সুস্থ হয়ে আমার ঘরে ফিরে আসে এবং প্রতিজ্ঞা করে আর কখনো নেশা করবে না। সোবহান দীর্ঘদিনের স্ত্রী সন্তানের প্রতিক্ষার প্রহর পারি দিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বিশ্বনাথের চড়চন্ডী গ্রামে স্ত্রী সন্তানকে ফেরত আনার জন্য আমার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে যায়। তার শশুরবাড়ী থেকে স্ত্রী সন্তানকে ফেরত আনতে সেখানেই তাদের স ঙ্গ দেয়। হঠাৎ ২৭ এপ্রিল শুক্রবার রাত আনুমানিক ১২ টার সময় আমাদের কাছে খবর আসে সোবহান তার জেটালী ডলীর  মিরাপাড়াস্থ বাসায় তার লাশ ঝুলুন্ত অবস্থায় রয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনা দেখে হতবাক হয়ে তার জেটালী ও শশুরবাড়ীর লোকজনকে জিজ্ঞেস করি আমার ছেলে বিশ্বনাথে তার স্ত্রী সন্তানকে ফেরত আনতে যায় এখানে কীভাবে তার লাশ ঝুলে রয়েছে। আমি তাদের কাছ থেকে এর কোন সঠিক জবাব পাইনি। তার শশুরবাড়ীর লোকজন এসময় ঘাঁ ডাকা দেয়। অবশেষে সিলেট শাহপরাণ থানা পুলিশ আমার ছেলের লাশ ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে গেলে থানা পুলিশ অজ্ঞাত কারণে তাদের ডায়েরীতে উল্লেখ করে সোবহানের মৃত্যু অপমৃত্যু কিন্তু আমাদের দাবি ঘটনার বিবরণে প্রমাণ হয় সোবহানের মৃত্যু একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু। পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী ফাহিমার প্রেমিক জাবেদ এবং তার শশুরবাড়ীর লোকজন এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত রয়েছে। আমি প্রশাসনের প্রতি জোড়ালো দাবি জানাচ্ছি সোবহানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়টি সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সোবহানের শশুরবাড়ীর লোকজন, জেটালী ডলী ও প্রেমিক জাবেদসহ অন্যান্যদের আইনের আওতায় এনে ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।