প্রচ্ছদ > সিলেট প্রতিক্ষণ > মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের স্বাধীনতা

মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের স্বাধীনতা

সিলেট প্রতিক্ষণ

সময়ের ডাক ডেস্ক:বিশিষ্ট্য মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক এবং প্রবীন রাজনীতিবিদ আ. ন.ম. শফিকুল হক বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কৃতিসন্তান বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে উৎসর্গকৃত শৈলীর কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন প্রকৃত অর্থে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের সমতুল্য। মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা আমাদেরকে জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর পথ প্রশস্ত করে দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শৈলীর এই উদ্যোগকে আমি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। আমি যতটুকু জানি, শৈলী শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে নয়, সাধারণ মানুষকেও জ্ঞানার্জনে উৎসাহিত করে। সমাজে সৃজনশীল কাজে শৈলী অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আজকের প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে অনুষ্ঠানে সকলের স্বতফূর্ত উপস্থিতি আমাকে সত্যিই আনন্দিত করেছে। গতকাল শুক্রবার বিকাল ৩টায় দরগাহ গেইটস্থ শহিদ সোলেমান হলে প্রগতিশীল পাঠক সংঘ শৈলী কর্তৃক আয়োজিত বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ২০১৮’এর প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথাগুলো বলেন। শৈলীর সভাপতি ফিদা হাসানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন দৈনিক সিলেটের ডাকের নির্বাহী সম্পাদক বিশিষ্ট্য গবেষক আবদুল হামিদ মানিক, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী, হলি চাইলড স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান, সিলেট উইমেন্স মডেল কলেজের প্রিন্সিপাল আব্দুল ওয়াদুদ তাপাদার, জমির আহমদ বহুমুখি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ নাজির হোসেন, জামিআ সিদ্দিকিয়ার পরিচালক মুফতি মনসুর আহমদ, শৈলীর উপদেষ্টা মীর ফয়সল আলী, উপদেষ্টা সচিব মাহবুব মুহম্মদ, উপদেষ্টা আরিফা সুলতানা, উপদেষ্টা হেলাল হামাম। প্রধান আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন শৈলীর প্রধান উপদেষ্টা কবি ও গবেষক সৈয়দ মবনু। শৈলীর শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক হাফিজ জামিল আহমেদের কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শৈলীর সহসভাপতি সালেহ আহমদ সাদি, অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মো. জাফর ইকবাল, কুইজ প্রতিযোগিতার প্রধান নিরীক্ষক মাজেদুল ইসলাম চৌধুরী, শৈলীর শাবিপ্রবি শাখার সভাপতি তানভির অনিক, শৈলী মহিলা শাখার সভাপতি সাইয়্যিদা মারহামা প্রমূখ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গবেষক আবদুল হামিদ মানিক বলেন, আগে এক সময় ছিলো যখন শক্তি দিয়ে বিজয় অর্জন সম্ভব হতো, বর্তমানে তা সম্ভব নয়। বর্তমান যুগ হলো জ্ঞানের যুগ। এই সময়ে জ্ঞান-বুদ্ধিতে যারা এগিয়ে থাকবে তারাই বিজয়ী হবে। পৃথিবীতে যারা যখন জ্ঞানের দিকে এগিয়ে ছিলো তাদের হাতেই তখন পৃথিবীর নেতৃত্বে ছিলো। আমরা ইতিহাসে দেখতে পাই মুসলমনরা যখন জ্ঞান অর্জনে এগিয়ে ছিলো তখন নেতৃত্ব তাদের কাছে ছিলো। বর্তমানে এগিয়ে আছে ইহুদীরা, তাই বিশ্বের বিভিন্ন দিকে নেতৃত্ব তাদের হাতে। আমরা যদি বিশ্বে আমাদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাই তবে অবশ্যই জ্ঞানচর্চায় এগিয়ে যেতে হবে। প্রগতিশীল পাঠকসংঘ শৈলী মূলত এখানেই কাজ করছে বলে আমাদের পর্যবেক্ষণে মনে হয়। আমাদের বিশ্বাস বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে শৈলী যে কাজ করে যাচ্ছে তা জাতির মননশীল নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আজকের প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও এখানে যে বিশাল আয়োজন তা প্রমাণ করছে শৈলীর কাজের প্রতি ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকদের আস্থা রয়েছে।
প্রধান আলোচক সৈয়দ মবনু বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে নিয়ে শৈলীর কুইজ প্রতিযোগিতা মূলত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করারই একটি কৌশল। হামিদুর রহমানের মতো অগ্নিসন্তানেরা এদেশের জন্য ত্যাগ কিংবা প্রাণ বিসর্জন না দিলে আমরা আজকে এখানে বাংলায় বক্তব্য দিতে পারতাম না। আমরা আমাদের স্বাধীন আত্মপরিচয় লাভ করতাম না। শৈলী জ্ঞান বুদ্ধি কর্ম প্রেমের মাধ্যমে নিজেকে এবং দেশকে জানতে উদ্বুদ্ধ করে। মানুষের মধ্যে জ্ঞান বুদ্ধি কর্মের সাথে প্রেমের সমন্বয় না হলে মানুষ শয়তান হয়ে যায়। তাই শৈলী জ্ঞান বুদ্ধি কর্ম এবং প্রেমের সমন্বয়ে মানুষের মনে দয়াদর্শন জাগিয়ে মননশীল মানুষ গড়তে চায়।
বিশেষ অতিথি দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের উপর শৈলীর সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পাঠকসংঘ শৈলী নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উজ্জিবিত করেছে। জ্ঞান বুদ্ধি কর্ম এবং প্রেমের আলোকে শৈলী আগামীতেও এরকম প্রতিযোগিতার আয়োজন করে যাবে বলে আমরা কামনা করি।
সভাপতির বক্তব্যে ফিদা হাসান বলেন, আমাদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার মধ্যদিয়ে আমরা চেষ্টা করেছি সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জাগ্রত করার। আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করেছি। যারা আমাদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
সিলেট মহনগরীর প্রায় ৮০টি প্রতিষ্ঠানের হাজারের মতো প্রতিযোগির মধ্যে ‘ক’ গ্রুপে প্রথম আদ্রিতা দে, দ্বিতীয় তামান্না বেগম, তৃতীয় শাহনাজ আক্তার এবং ‘খ’ গ্রুপে প্রথম তারান্নুম আজিজ চৌধুরী, দ্বিতীয় অসীম দাশ, তৃতীয় তানজিনা হোসেন লিজা। এছাড়াও কৃতি বিশের মধ্যে পুরস্কৃত হন যথাক্রমে মো. অলিদ বিন আলী, অমিত বিশ্বাস কনক, শাহ ইসরাত জাহান লিমা, কামিনা আক্তার সুমা, সাদিয়া আফরিন তামান্না, ফাহমিদা আক্তার, লুবানা ইয়াসমিন, মো. জাহিদ হাসান সিপু, হা. মো. জুবায়ের আহমদ, আব্দুল কাইয়ুম, তানজিলা আক্তার, শাওনী কুমার চন্দ্র, হোছনারা ইয়াছমিন, আয়শা মালিক সামিয়া, সুপি আক্তার, মো. জুবায়ের ইসলাম রুমেল, তাহমিদ আবেদিন তানিম।

ক্যাপশন : প্রগতিশীল পাঠকসংঘ শৈলীর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ২০১৮ তে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছেন বিশিষ্ট্য মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ আ ন ম শফিকুল হক