সাকিবের চোখে টেস্টে আটে উঠাই সবচেয়ে বড় অর্জন

 

স্পোর্টস ডেস্ক :এবার আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলছেন সাকিব আল হাসান। প্রতি ম্যাচেই তার খেলতে হচ্ছে, ফলে মাথার উপর বেশ চাপ। তবে এই চাপের মাঝেও একটু বিরতিতে স্বদেশভূমি থেকে ঘুরে গেছেন এই অলরাউন্ডার, শুনেছেন টেস্টে দলের উন্নতির সুসংবাদও। টাইগার টেস্ট অধিনায়কের মতে, র্যাংকিংয়ে এই উন্নতি ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন।

গত ১ মে এই সুসংবাদ শুনেছে বাংলাদেশ। টেস্ট র্যাংকিংয়ে প্রথমবারের মতো আট নাম্বারে উঠে এসেছে টাইগাররা। ওয়ানডেতে তো ক্রমান্নতি হচ্ছেই। তবে টেস্টের অর্জনকেই সবচেয়ে বড় মনে করছেন সাকিব। বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারের চোখে, ওয়ানডের ষষ্ঠ কিংবা সপ্তম স্থানের চেয়ে টেস্টের অষ্টম স্থানটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

 

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের উন্নতিটা প্রত্যাশিত। তবে দীর্ঘদিন টেস্ট আঙিনায় সংগ্রাম করা টাইগারদের জন্য সাদা পোশাকে ভালো করাকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন সাকিব। এই ফরমেটে উন্নতির খবরটাই তার কাছে সবচেয়ে বড়। সাকিব বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটা সম্ভবত এখন পর্যন্ত আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। ওয়ানডেতে ষষ্ঠ বা সপ্তম স্থানের চেয়ে এটার ওজন অনেক বেশি। কারণ আমরা টেস্টে ভালো ছিলাম না, খুব কমই আমরা ধারাবাহিকভাবে ভালো করতে পেরেছি।’

সাকিব মনে করছেন, টেস্টে এই উন্নতি দিয়ে প্রমাণ হয়েছে, ছেলেরা এই অবস্থানে আসার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছে। দেশসেরা এই অলরাউন্ডারের ভাষায়, ‘র্যাংকিংয়ে উন্নতি দিয়েই বোঝা যাচ্ছে, আমরা ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করতে পারছি। টেস্টে ধারাবাহিকভাবে ভালো করা খুব কঠিন কাজ। এটা দিয়ে আমাদের সংগ্রাম এবং পরিশ্রমকে বোঝাচ্ছে, আইসিসি টেস্ট র্যাংকিংয়ে আটে উঠতে যার দরকার পড়েছে আমাদের। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন। এর ফলে আমরা বড় ফরমেটে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবো।’

টেস্টে আট নাম্বারে উঠতে অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পেলেও এই ফরমেটে টাইগাররা উন্নতির ছাপ রাখতে পেরেছে মাত্র কয়েক বছর হলো। ২০১৫ সালের পর থেকে ১৮টি টেস্ট খেলেছে তারা। জিতেছে ৩টিতে, ৫টি ড্র এবং ১০টি হার। এর মধ্যে আছে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫-এ, পেছনে ফেলেছে নিকট প্রতিদ্বন্দ্বি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।

আইপিএল শেষেই ক্যারিবীয়ান দ্বীপপুঞ্জে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেবেন সাকিব। দ্বিতীয়বার নেতৃত্ব হাতে পাওয়ার পর এটি হবে তার প্রথম টেস্ট সফর। আগের সিরিজে অধিনায়ক থাকলেও আঙুলের চোটের শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজে খেলতে পারেননি এই অলরাউন্ডার।