প্রচ্ছদ > ভোটের কথা > বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসবে না আ’লীগ

বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসবে না আ’লীগ

ভোটের কথা শীর্ষ সংবাদ

সময়ের ডাক ডেস্ক: আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসবে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এমন কি বিএনপিকে নির্বাচনকালীন সরকারেও আমন্ত্রণ জানানো হবে না। সংবিধানের বর্তমান বিধান অনুযায়ীই একাদশ জাতীয় নির্বাচন করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ক্ষমতাসীন দলটি।তাদের মতে, যেহেতু সংসদে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব নেই, তাই নির্বাচনকালীন সরকারে থাকার অধিকারও তাদের নেই।

সংলাপ ও নির্বাচন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ বা সহায়ক সরকার বা জাতীয় নির্বাচন ইস্যুতে আলোচনার জন্য বিএনপি যেসব দাবি করছে, তা অহেতুক ও অযৌক্তিক।

সংবিধানে নিরপেক্ষ বা সহায়ক সরকার বলে কিছু নেই। বরং তাদের এসব দাবি থেকে গন্ধ পাওয়া যায় যে, তারা নির্বাচনকালীন সরকারে অংশ নিতে চায়। কিন্তু এবার সেই সুযোগও নেই। কেননা বিএনপি এখন আর সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দল নয়।’

নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে গত নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। এমনকি নির্বাচন ঠেকাতে সহিংস আন্দোলন করেও ব্যর্থ হয় দলটি। এবার নির্বাচন সামনে রেখে সহায়ক সরকার বা নিরপেক্ষ সরকারের দাবি তুলেছে বিএনপি।

এছাড়া ভোটের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, সেনাবাহিনী মোতায়েন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিসহ সংলাপেরও দাবি করে আসছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বরাবরই সংলাপের দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এর আগে নির্বাচন কমিশন গঠন প্রশ্নেও বিএনপি তাদের সঙ্গে সরকারকে আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছিল।

তা প্রত্যাখ্যান করেই নির্বাচন কমিশন গঠন হয়। এরপর জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নে বিএনপি নেতারা বারবার সংলাপের দাবি তোলেন।

কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, ‘এ নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার কিছু নেই। তারা যদি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করতে চায়, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে করতে পারে। কেননা নির্বাচন পরিচালনা করবে ইসি।’

২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এছাড়া জাতিসংঘের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে দু’দলের সাধারণ সম্পাদকদের নেতৃত্বে সিনিয়র নেতাদের মধ্যে আলোচনাও হয়।

এর আগে ২০০৬ সালের অক্টোবরে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আবদুল জলিল এবং বিএনপির মহাসচিব প্রয়াত আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার মধ্যে ৩ সপ্তাহব্যাপী সংলাপ হয়েছিল, যদিও দুটি সংলাপই ব্যর্থ হয়।

২০১৪ সালে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মধ্য সরাসরি সংলাপ হয়নি। হয়েছিল টেলিফোন সংলাপ। সেই সংলাপ একপর্যায় ঝগড়ায় রূপ নেয়। এরপর দুটি দলের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়তে থাকে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি আবার সংলাপের দাবি করেছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অনড়। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, ‘সংবিধানে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হবে। আর নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন- যাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে নির্বাচনকালীন সরকার।’

তাদের মতে, ‘আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক বা নিরপেক্ষ সরকার বাতিল হয়ে গেছে। নির্বাচন কারও জন্য বসে থাকবে না, কোনো দল নির্বাচনে আসুক না আসুক, জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।’

এ নিয়ে বুধবার গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোনো দল নির্বাচনে আসবে কি আসবে না, সেটা একান্তই তাদের বিষয়। কেউ একজন আইনি প্রক্রিয়ায় জেলে গেছেন, তিনি মুক্তি না পেলে তার দল নির্বাচনে আসবে না, এটা কেমন কথা। কেউ নির্বাচনে আসতে না চাইলে তাকে জোর করে নির্বাচনে আনা হবে না।’

এর আগে আরেক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী সংলাপ প্রশ্নে তার মনোভাব ব্যক্ত করেছিলেন। এক সাংবাদিকের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, ‘কার সঙ্গে আলোচনা? ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করে অপমানিত হয়েছি।

টেলিফোনে আলোচনা এবং নির্বাচনকালীন সরকারে অংশ নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তারপর যে ঝাড়িটা খেলাম, ওইরকম আর অপমানিত হওয়ার ইচ্ছা নেই। যাদের মধ্যে এতটুকু ভদ্রতা জ্ঞান নেই, তাদের সঙ্গে কথা বলার কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।’

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপির থাকা না থাকা নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, ‘গতবার নির্বাচনকালীন সরকারে শুধু অংশগ্রহণ নয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ও বিএনপিকে অফার করা হয়েছিল। সেটা পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্বকারী দল হিসেবে। কিন্তু এবার পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্বকারী দল নয় এমন কাউকে আমন্ত্রণ জানানোর কোনো চিন্তা-ভাবনা সরকারের নেই। সংবিধানে এমন কোনো সুযোগ আছে বলেও আমার জানা নেই।’