প্রচ্ছদ > সিলেট প্রতিক্ষণ > ঋন না দেওয়ায় বিশ্বনাথে ‘পান ভান্ডারে’ হামলার অভিযোগ

ঋন না দেওয়ায় বিশ্বনাথে ‘পান ভান্ডারে’ হামলার অভিযোগ

সিলেট প্রতিক্ষণ

 

 

 বিশ্বনাথ  প্রতিনিধি:: টাকা ঋন চেয়ে না পাওয়ার জের ধরে সিলেটের বিশ্বনাথে থানা কমপাউন্ড সংলগ্ন ‘শাহীন পান ভান্ডারে’ হামলা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে হামলার ঘটনাটি ঘটে। হামলার সাথে যুবলীগ-ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীদের করা মারধরে আহত হয়েছেন শাহীন পান ভান্ডারের মালিক শাহীন মিয়া (৪৫) ও তার ছোট ভাই জবেদ আহমদ (২৫)। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা গ্রহন করেছেন। হামলার ঘটনায় পান দোকানদার শাহীন মিয়া বাদি হয়ে মঙ্গলবার রাতেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

আহত শাহীন মিয়া জানান, অন্যান্য সময়ের মতো সোমবারে যুবলীগ নেতা অ্যাডভোকেট সায়েদ আহমদ তার (শাহিন) কাছে ১০ টাকা দেওয়ার কথা বলেন। এসময় শাহীন তাকে (সায়েদ) ১০ টাকা না দিয়ে তার (সায়েদ) কাছে পূর্বের পাওনা (শাহীন পাবে) ৪শত টাকা দেওয়ার কথা বলে। পাওনা টাকা চাওয়ায় তার (শাহীন) উপর ক্ষিপ্ত হয়ে অ্যাডভোকেট সায়েদ আহমদ বলেন হিরোইন দিয়ে পুলিশের কাছে তাকে (শাহীন) ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। হুমকি প্রদানের অভিযোগে সোমবার অ্যাডভোকেট সায়েদকে অভিযুক্ত করে তিনি (শাহীন) থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। আর ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে মঙ্গলবার দিবাগত সন্ধ্যা রাতে যুবলীগ নেতা অ্যাডভোকেট সায়েদ আহমদের নেতৃত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম উদ্দিন, যুবলীগ নেতা মনোহর হোসেন মুন্না, আবুল কালাম আজাদ, নূরশেদ আহমদ, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শীতল বৈদ্য, সহ সভাপত শিপন আহমদ’সহ কয়েকজন তাদের (শাহিন-জাবেদ) উপর হামলা চালায়।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও মার্কেটের মালিক ফুলকাছ মিয়া জানান, যুবলীগ নেতা অ্যাডভোকেট সায়েদ আহমদ পানের দোকানদার শাহীন মিয়ার টাকা দাবি করেন, শাহীন টাকা দেয়নি বলে তাদের (শাহীন-জাবেদ) উপর হামলা করা হয়। এসময় পুলিশের বেশ কিছু সদস্যও উপস্থিত ছিলেন।

 

যুবলীগ নেতা অ্যাডভোকেট সায়েদ আহমদ বলেন, ছাত্রলীগের এক ভাই শাহীনের কাছে পান চায়, কিন্তু শাহীন তাকে পান দেয়নি। এনিয়ে শাহীনের সাথে তার কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এর এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়েছে।

 

উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি ছুরাব আলী বলেন, সোমবারের বিষয়টি আপোষে মিমাংশা করার জন্য আমি শাহীনকে রাজি করিয়ে ছিলাম। এরপরও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার (শাহীন) পান ভান্ডারে হামলা করা উচিত হয়নি।

 

ঘটনাটি দুঃখ জনক বলে দাবি করে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা পিপিএম শাহীন মিয়ার দায়ের করা লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করেন।