আমরা শ্রমিক ভাত চাই

মো: গোলাম মোস্তফা (দুঃখু)
মাটির দেহ আছে পড়ে,

ভাতের জন্য কান্না করে!

আমার পেট খানি।
দিনের আলোতে করি কাজ,

রাতের অন্ধকার আমায়

আপন করিতে পারে না।
বাবু সাহেবের ইচ্ছে,

আমি হলাম গোলাম।

পায়ের নিচের ময়লা,

দেহ আমার শেষ করিলো!

মালিক সাহেব বাবু।
সূর্য আসে আমার ঘরে,

দেহ আমার জ্বালা করে

এমন আলো দেখে।
মাটির দেহ পারছে না আর,

এমন ব্যথা নিতে।

কষ্ট দাও আরো দাও,

আমি শ্রমিক! আমি শ্রমিক!
আমার টাকা আমায় দিবে।

এত মায়া কেন আসে,

টাকার দেহ দেখে।

হা হা হা সাহেব বাবু,

আমার টাকায় ভালো আছেন।
এই বিশাল পৃথিবীর রাজ্যে, লজ্জা হয় আপনার সাহেব গিরি দেখে।

শ্রমিকের শ্রম দেশের শক্তি,

আমরা শ্রমের রাজ্য দিবো

তোমরা আমাদের প্রাপ্য মজুরি দাও

বুকে হাত রেখে বলছি

দেহের শক্তি মনের বিশ্বাস।
ভালোবাসার হাত দিয়ে,

সাহেবের রাজ্য করে তুলবো

বিজয়ের রং দিয়ে।

জ্বালা করছে সারা শরীর,

আমি গরিব নাকি ওরা গরিব।
রাতের আঁধারে এত জ্বালা,

দিনের আলোতে ছলনার খেলা।

আমায় ভাত দিবে ভাত,

আমি শ্রমিকের কন্যা।

আয়েশা বেগম পেটে বড় জ্বালা,
বাবা আমায় কথা দিছিলো।

ভাতের থালা নিয়ে আসবে,

বেলা শেষের আগে।

আয়েশা তোর বাবা এসেছে!
সাদা কাপড়ে হাজার মানুষের ভিড়ে,

বাবা আমার তাকাবে এবার,

আয়েশা বেগমের ডাকে।
ভাত চাই না – বাবা চাই,

পেটে আমি বালু দিবো।

বাবা আমার ফিরে এসো,

কারখানায় তুমি গেলা কেন!
আয়েশার ভাতের টাকার জন্য।

ও সাহেব বাবুরা,

আর কতো শ্রমিকের

জীবনের দাম দিলে,

সঠিক মজুরি পাবে।
বাঁচার জন্য শ্রম দেই,

মাটির দেহ কষ্ট পায়।

কাজের কঠিন সময় দেখে,

শ্রমিক আমি চিন্তা করি।
কাজ আমার বিশ্বাস,

শ্রম আমার দেশ।

আমরা শ্রমিক ভাত চাই,

কাজের বিনিময়ে।

হোটেল সাজে সাহেবের মনের রঙে!
আমি শ্রমিক মন সাজাই, আমার দেহের শ্রমে।

লেখক: বিতার্কিক শিক্ষার্থী, সাংবাদিকতা বিভাগ, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, খুলশী, চট্টগ্রাম।